August 10, 2026, 2:22 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফল প্রকাশের পর কুষ্টিয়া জেলার শীর্ষস্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলেও দেখা গেছে সাফল্যের নানা চিত্র।
প্রকাশিত ফলাফলের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়ার শতকরা হারে কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জেলার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৯০ দশমিক ১১ শতাংশ জিপিএ-৫ পেয়েছে।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, কুষ্টিয়া জেলার শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৯০ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।
অন্যদিকে হাসিব ড্রিম স্কুল কলেজ থেকে ৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৬৫ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১০০ শতাংশ।
কুষ্টিয়া জেলা স্কুল থেকে ২৯০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৫৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৫৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ, আর পাসের হার ৯৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। সংখ্যার দিক থেকেও প্রতিষ্ঠানটি জেলার অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৬৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৫২ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং পাসের হার ১০০ শতাংশ।
এ ছাড়া এডুকেয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২৫০ জনের মধ্যে ১১৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৫ দশমিক ২০ শতাংশ।
ক্যালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৩৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং পাসের হার ৯৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
এ ছাড়া স্কুল অব লরিয়েটস থেকে ৮৫ জনের মধ্যে ৩০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৩৫ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং পাসের হার ৯৪ দশমিক ১১ শতাংশ। কুষ্টিয়া মিশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৭৮ জনের মধ্যে ২৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে এবং পাসের হার ৯৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।
সানআপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পরীক্ষার্থী ছিল ১৬জন এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। ভেড়ামারা সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৬৪ জন পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ ৫৬ জন। পাশের হার ৮১.৪৩%।
ভেড়ামারা সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ২০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ২০ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং পাসের হার ৮৭ দশমিক ১২ শতাংশ।
কুমারখালী এম এন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ২০ শতাংশ। বিদ্যালয়টির মোট পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, কুমারখালী সরকারি পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ২০ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং পাসের হার ৯০ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
মিরপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ৬০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ১৫ শতাংশ হলেও বিদ্যালয়টির পাসের হার ৯১ দশমিক ৬৬ শতাংশ—তালিকাভুক্ত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
খোকসা জানিপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৯৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাসের হার ৬৪ দশমিক ৮০ শতাংশ।
এ ছাড়া দৌলতপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ১০ দশমিক ২০ শতাংশ এবং পাসের হার ৮৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
কুমারখালী এম এন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ২০ শতাংশ। বিদ্যালয়টির সামগ্রিক পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
কুমারখালী সরকারি পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ২০ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং পাসের হার ৯০ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
অন্যদিকে, দৌলতপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ১০ দশমিক ২০ শতাংশ এবং পাসের হার ৮৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
ফলাফলের চিত্র/
প্রকাশিত ফলাফল থেকে দেখা যায়, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির শতকরা হারে কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সবার ওপরে। প্রতিষ্ঠানটির ২১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯০ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অন্যদিকে জিপিএ-৫-এর মোট সংখ্যার দিক থেকেও কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এগিয়ে, এরপর রয়েছে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল ও এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। আর ১০০ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছে পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হাসিব ড্রিম স্কুল কলেজ এবং সানম্যাপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
তবে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু জিপিএ-৫-এর হার নয়, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, মোট পাসের হার এবং জিপিএ-৫-এর মোট সংখ্যাকেও বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত এই ফলাফলে কুষ্টিয়ার সরকারি-বেসরকারি উভয় ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।