September 10, 2026, 2:47 pm

৪ লাখ পরীক্ষার্থীর প্রায় ১৩ লাখ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ; ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর বদলের তথ্য প্রকাশ
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ফল প্রকাশের পর অনেকের চোখে ছিল হতাশা। কারও প্রত্যাশিত জিপিএ আসেনি, কেউ পেয়েছেন এক-দুই নম্বরের ব্যবধানে কম গ্রেড, আবার কেউ ফেল করেছেন এমন একটি বিষয়ে, যে বিষয়ে নিজের পরীক্ষা ভালো হয়েছিল বলে মনে করেছিলেন। ফল প্রকাশের পর সেই অসন্তোষই গড়ায় খাতা চ্যালেঞ্জে।
এবার সেই খাতা চ্যালেঞ্জের ফল প্রকাশের পর সামনে এসেছে আরও বড় একটি প্রশ্ন—মূল্যায়নের সময় যে উত্তরপত্রে একটি নম্বরও ছিল না, পুনর্নিরীক্ষণের পর সেখানে কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর নম্বর বদলে গেল?
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবার ৫৬ হাজার ২৫৯ জন শিক্ষার্থীর নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অতীতে কোনো বছর পুনর্নিরীক্ষণের পর এতসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল বা নম্বর পরিবর্তনের ঘটনা দেখা যায়নি।
ঘটনাটি শুধু পরীক্ষার্থীদের ফল সংশোধনের একটি পরিসংখ্যান নয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষা এসএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নের মান, পরীক্ষক নিয়োগ, মূল্যায়নের নির্ভুলতা এবং পুনর্নিরীক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন সামনে এসেছে।
রেকর্ড আবেদন, রেকর্ড পরিবর্তন
এবারের চিত্রের শুরুটা হয়েছিল ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর। এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মোট ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হন।
ফল প্রকাশের পরদিন, ১১ আগস্ট থেকে শুরু হয় পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন। চলে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। সাত দিনের এই প্রক্রিয়ায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেন।
কিন্তু পরীক্ষার্থীর সংখ্যা যতটা, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ছিল খাতার সংখ্যা। কারণ একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন।
সব মিলিয়ে এবার পুনর্নিরীক্ষণের আওতায় এসেছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র। এর মধ্যে লিখিত বা তাত্ত্বিক পরীক্ষার উত্তরপত্র ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার উত্তরপত্র ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি।
অর্থাৎ, ফল প্রকাশের পর দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর সামনে প্রায় ১৩ লাখ উত্তরপত্র আবার পরীক্ষা করে দেখার কাজ এসে পড়ে।
কেন এত শিক্ষার্থী খাতা চ্যালেঞ্জ করলেন?
এবারের পুনর্নিরীক্ষণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহের পেছনে ছিল আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
আগের প্রচলিত ব্যবস্থায় ‘পুনর্নিরীক্ষণ’ বলতে মূলত উত্তরপত্রে দেওয়া নম্বর ঠিকভাবে যোগ করা হয়েছে কি না, কোনো প্রশ্নের উত্তর মূল্যায়ন না করে বাদ পড়েছে কি না, নম্বর খাতায় ঠিকভাবে স্থানান্তর হয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হতো।
এবার অবশ্য উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন বা পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ নিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবার আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় দেখার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে বিস্তৃতভাবে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
ফলে অনেক শিক্ষার্থী মনে করেছেন, মূল ফলাফলে প্রত্যাশিত নম্বর না এলেও খাতা নতুন করে দেখা হলে নম্বর বাড়তে পারে।
সেই প্রত্যাশার প্রতিফলনই দেখা গেছে আবেদনের পরিমাণে।
ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি আবেদন
পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এই বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার জন্য ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। অর্থাৎ শুধু ঢাকা বোর্ডেই আবেদন করা উত্তরপত্রের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭৭টি।
অন্য বোর্ডগুলোতেও বিপুলসংখ্যক আবেদন পড়ে। ফলে সব বোর্ড মিলিয়ে পুনর্নিরীক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সামনে তৈরি হয় বিশাল কর্মযজ্ঞ। এটি শুধু একটি প্রশাসনিক কাজ ছিল না। প্রতিটি খাতা নতুন করে দেখার অর্থ ছিল—একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন, পছন্দের কলেজে ভর্তি, কাঙ্ক্ষিত বিভাগে যাওয়ার সুযোগ কিংবা অনেক ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি ফলাফল আবার পরীক্ষা করা।
৫৬ হাজার ২৫৯—সংখ্যাটির গুরুত্ব কোথায়?
পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ৫৬ হাজার ২৫৯। কারণ একটি পাবলিক পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশের পর এত বড়সংখ্যক শিক্ষার্থীর নম্বর পরিবর্তন হওয়া মূল্যায়নব্যবস্থার ওপর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তোলে।
এখানে অবশ্য একটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি—‘নম্বর পরিবর্তন’ এবং ‘ফল পরিবর্তন’ একই বিষয় নয়।
একজন শিক্ষার্থীর একটি বিষয়ে এক বা দুই নম্বর বাড়তে পারে। কিন্তু সেই নম্বর বাড়ার পরও তার গ্রেড বা জিপিএ অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবার সীমান্তবর্তী নম্বরের ক্ষেত্রে এক-দুই নম্বরের পরিবর্তনই গ্রেড বদলে দিতে পারে।
কোনো শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করতে পারেন, কারও গ্রেড বাড়তে পারে, আবার কারও সামগ্রিক জিপিএ পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর পরিবর্তনের পাশাপাশি কতজনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে, কতজন ফেল থেকে পাস করেছেন, কতজন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন এবং কতজনের সামগ্রিক জিপিএ বেড়েছে—এই তথ্যগুলোই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রায় ১৩ লাখ খাতা, প্রায় ১৯ কোটি টাকার প্রক্রিয়া
পুনর্নিরীক্ষণের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষার্থীদের আর্থিক ব্যয়ও। প্রতি পত্রের পুনর্নিরীক্ষণ ফি ১৫০ টাকা। সে হিসাবে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্রের জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই ব্যয়কে প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, পরীক্ষার্থীদের কাছে এটি শুধু মানসিক উৎকণ্ঠার বিষয় ছিল না; এর সঙ্গে যুক্ত ছিল উল্লেখযোগ্য আর্থিক ব্যয়ও। একজন শিক্ষার্থী যদি একাধিক বিষয়ে আবেদন করেন, তাহলে তার ব্যক্তিগত ব্যয়ও বেড়েছে।
এ কারণে পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তনের এত বড় সংখ্যা এখন স্বাভাবিকভাবেই আরেকটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—যে উত্তরপত্রের মূল্যায়ন নিয়ে পরে সংশোধনের প্রয়োজন হচ্ছে, সেই মূল্যায়ন প্রথম ধাপেই আরও নির্ভুল করা যায় কি না।
পরীক্ষকরা কি যথেষ্ট সময় ও প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন?
এই প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। এসএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়ন একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। বিপুলসংখ্যক শিক্ষক পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের একটি বড় অংশকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে হয়। এখানে প্রশ্ন হলো—প্রতিটি উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষক পর্যাপ্ত সময় পেয়েছেন কি না, মূল্যায়নের আগে যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল কি না, প্রধান পরীক্ষকের তদারকি কতটা কার্যকর ছিল এবং মূল্যায়নে পরীক্ষকদের মধ্যে সামঞ্জস্য কতটা নিশ্চিত করা হয়েছিল।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত নথিতেও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষক নিয়োগ এবং উত্তরপত্র গ্রহণসংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে।
অর্থাৎ মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি একটি সুসংগঠিত প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই হওয়ার কথা। কিন্তু পুনর্নিরীক্ষণে যদি বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্রে পরিবর্তন আসে, তাহলে সেই কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে মূল্যায়ন করাও জরুরি।
আগের ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কি এবার সামনে এলো?
পুনর্নিরীক্ষণ ব্যবস্থা মূলত শিক্ষার্থীর জন্য একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পরীক্ষার্থী মনে করলে যে তার ফল সঠিক হয়নি, সে বোর্ডের কাছে আবেদন করতে পারে। কিন্তু এই ব্যবস্থা যদি প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর নম্বর পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সেটিকে কেবল ‘খাতা চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে দেখলে সমস্যার মূল জায়গাটি আড়ালে থেকে যায়। কারণ প্রশ্নটি তখন আর শুধু একজন শিক্ষার্থীর খাতা নিয়ে থাকে না। প্রশ্ন দাঁড়ায়— প্রথমবারের মূল্যায়ন কতটা নির্ভুল?
একটি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীকে কেন আবার টাকা দিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে তার উত্তরপত্রটি ঠিকভাবে মূল্যায়ন হয়েছে কি না? এবারের বিপুলসংখ্যক পরিবর্তন সেই প্রশ্নটিকেই আরও জোরালো করেছে।
ফলাফলের সঙ্গে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িত
এসএসসি শুধু একটি পরীক্ষা নয়। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এটি একজন শিক্ষার্থীর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এসএসসির ফলের ওপর নির্ভর করে কলেজে ভর্তি, বিজ্ঞান-মানবিক-ব্যবসায় শিক্ষা বা অন্যান্য শিক্ষাপথ বেছে নেওয়া, পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি এবং পরবর্তী একাডেমিক প্রতিযোগিতার অনেকটাই নির্ধারিত হয়। একজন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এক নম্বরের ব্যবধানও কখনো কখনো বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। কেউ কাঙ্ক্ষিত কলেজে সুযোগ পান, কেউ পান না। কেউ একটি নির্দিষ্ট গ্রেডে উঠে যান, কেউ একটি ধাপ নিচে থেকে যান। আবার কারও ক্ষেত্রে ফেল থেকে পাস হওয়াই হয়ে উঠতে পারে পুরো শিক্ষাজীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ঘটনা। সেই জায়গায় পুনর্নিরীক্ষণে নম্বর পরিবর্তনের এত বড় সংখ্যা তাই নিছক পরিসংখ্যান নয়। এর পেছনে রয়েছে হাজার হাজার পরিবারের প্রত্যাশা, উদ্বেগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
এবার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ
এখন শিক্ষা বোর্ডগুলোর সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুধু সংশোধিত ফল প্রকাশে শেষ হয়ে যাওয়া নয়। প্রকাশ করা প্রয়োজন বোর্ডভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান।
কোন বোর্ডে কতজনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে, কতটি খাতায় পরিবর্তন এসেছে, কতজন ফেল থেকে পাস করেছেন, কতজনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে, কতজন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন—এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে পুরো চিত্রটি স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণও প্রয়োজন। বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, আইসিটি কিংবা অন্যান্য বিষয়ে পরিবর্তনের হার কি সমান? নাকি কোনো কোনো বিষয়ে পরিবর্তন তুলনামূলক বেশি? যদি কোনো একটি বিষয় বা কোনো একটি বোর্ডে পরিবর্তনের হার অস্বাভাবিক বেশি হয়, তাহলে সেটির কারণও অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
শুধু শিক্ষার্থীর খাতা নয়, মূল্যায়নব্যবস্থারও ‘চ্যালেঞ্জ’
এসএসসির এবারের পুনর্নিরীক্ষণের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই। চার লাখের বেশি শিক্ষার্থী যখন ফল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আবেদন করেন, প্রায় ১৩ লাখ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আওতায় আসে এবং প্রকাশিত হিসাবে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর পরিবর্তনের তথ্য সামনে আসে, তখন বিষয়টিকে কেবল ‘বোর্ড চ্যালেঞ্জে শিক্ষার্থীদের সাফল্য’ হিসেবে দেখলে পুরো বাস্তবতা ধরা পড়ে না। এটি একই সঙ্গে মূল্যায়নব্যবস্থার জন্যও একটি চ্যালেঞ্জ। কারণ একটি নির্ভরযোগ্য পাবলিক পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—একবার ফল প্রকাশের পর সেটি যেন শিক্ষার্থী ও সমাজের কাছে বিশ্বাসযোগ্য থাকে। পুনর্নিরীক্ষণ সেই বিশ্বাসের নিরাপত্তা-জাল হতে পারে। কিন্তু নিরাপত্তা-জালটি যদি প্রতিবছর বড় হতে থাকে, তাহলে একসময় প্রশ্ন উঠবেই—সমস্যাটি কি নিরাপত্তা-জালে, নাকি মূল ব্যবস্থাতেই? এবারের এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের রেকর্ডসংখ্যক আবেদন এবং বিপুলসংখ্যক নম্বর পরিবর্তন সেই প্রশ্নটিকেই সামনে নিয়ে এসেছে। এখন প্রয়োজন আবেগের নয়, তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন—কেন এত পরিবর্তন হলো, কোথায় ভুল হলো এবং ভবিষ্যতের এসএসসি পরীক্ষায় কীভাবে প্রথম মূল্যায়নটিকেই আরও নির্ভুল করা যায়। কারণ শিক্ষার্থীর ফলাফল সংশোধন করা জরুরি; কিন্তু তার চেয়েও জরুরি হলো—যেন সংশোধনের প্রয়োজনই কমে আসে।