September 10, 2026, 4:25 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিক অভিযোগে আলোচনায় আলীনুর রহমান
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী আলীনুর রহমানকে ঘিরে কয়েক দিনের ব্যবধানে একের পর এক অভিযোগ সামনে এসেছে। শাখা শিবিরের এক নেতাকে চড় মারার অভিযোগ এবং ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ও বহিরাগতদের নিয়ে সশস্ত্র মহড়ার অভিযোগের পর এবার সেমিস্টার পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করতে গিয়ে শিক্ষকের হাতে ধরা পড়েছেন তিনি।
বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ২৪০৯ নম্বর কোর্সের পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বন করার সময় দায়িত্বরত শিক্ষক অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মফিজুল ইসলাম আলীনুরকে নকলসহ আটক করেন। পরে তার উত্তরপত্র বাজেয়াপ্ত করে বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুস সালামের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সূত্র জানায়, পরীক্ষার পর আলীনুর বিভাগীয় সভাপতির কাছে তার খাতা ফেরত চান। তবে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার না করে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়। এ বিষয়ে বিভাগীয় সভাপতির বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, পরীক্ষায় নকল বা অন্য কোনো ধরনের অসদুপায়ের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কঠোর। তিনি বলেন, “আমি গতকাল সকালে তাদেরকে পরীক্ষার সিটে বসিয়ে দিয়ে এসেছি এবং খুবই সতর্ক বার্তা দিয়েছি যে কোনো রকম অসদুপায় অবলম্বন করলে সরাসরি অ্যাকশন নেওয়া হবে। শনিবারে ক্যাম্পাস খুলুক এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আলীনুর রহমান বলেন, “আমি কিছু নিয়ে যাইনি। আমার বন্ধুর কাছ থেকে নিয়ে লিখতেছিলাম। মফিজুল স্যার আমার কাছ থেকে খাতা নিয়ে নেয়। পরে চেয়ারম্যান স্যার আমাকে বের হয়ে যেতে বলে।”
চড় মারার অভিযোগে উত্তেজনা
পরীক্ষার এ ঘটনার কয়েক দিন আগেই আলীনুরকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। গত শনিবার শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রবেশমুখে ক্র্যাচে ভর করে যাওয়ার সময় শাখা শিবিরের হল সেক্রেটারি ও তার চেয়ে সিনিয়র শিক্ষার্থী কাজী জুহায়েরকে ‘বেয়াদব’ আখ্যা দিয়ে আলীনুর আচমকা চড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে বহিরাগতদের নিয়ে সশস্ত্র মহড়ার অভিযোগও সামনে আসে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে প্রতিবেদনে কী সুপারিশ করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
হলের সিট বরাদ্দ নিয়েও অভিযোগ
এর আগে পোষ্য কোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর কোনো সিট বরাদ্দ ছাড়াই হলে অবস্থানের অভিযোগও উঠেছিল আলীনুরের বিরুদ্ধে। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে তাকে ঘিরে হলের বৈধতা, অন্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসদাচরণ, বহিরাগতদের নিয়ে সশস্ত্র মহড়া এবং পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের মতো একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে।
সবশেষ পরীক্ষায় অসদুপায়ের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। পরীক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে অসদুপায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।