October 28, 2026, 2:11 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলা্ইন/
রেললাইন, বিদ্যুৎ, সংকেত ও টেলিযোগাযোগব্যবস্থা স্থাপনে চুক্তিমূল্য প্রায় ১৭,৫১২ কোটি টাকা; তিন মেট্রো প্রকল্পে ব্যয় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর: বাংলাদেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-১-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের কাজ পেয়েছে ভারতের অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)। প্যাকেজ দুটির আওতায় রেললাইন স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা, সংকেত, টেলিযোগাযোগ এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপনের কাজ করা হবে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথিতে প্যাকেজ দুটির সম্মিলিত চুক্তিমূল্য প্রায় ১৭ হাজার ৫১২ কোটি টাকা।
এলঅ্যান্ডটি গত ২৭ অক্টোবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চুক্তি পাওয়ার বিষয়টি জানায়। বাংলাদেশ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের (বিপিপিএ) নথিতেও প্রতিষ্ঠানটির নাম এবং সংশ্লিষ্ট প্যাকেজগুলোর তথ্য রয়েছে।
বিপিপিএর তথ্য অনুযায়ী, সিপি-০৯ প্যাকেজের আওতায় রেললাইন ও বৈদ্যুতিক স্থাপনা নির্মাণে চুক্তিমূল্য ১১ হাজার ৬৫.৫৮ কোটি টাকা। এলঅ্যান্ডটি ও জাপানের সুমিতোমো করপোরেশনের কনসোর্টিয়াম এ কাজ করবে। অন্যদিকে সিপি-১০ প্যাকেজের মূল্য ৬ হাজার ৪৪৬.৬৫ কোটি টাকা। এ প্যাকেজে সংকেত, টেলিযোগাযোগ, প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর এবং এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (ইআরএম) ব্যবস্থা স্থাপনের দায়িত্ব পেয়েছে এলঅ্যান্ডটি।
এলঅ্যান্ডটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিপি-০৯ প্যাকেজে পুরো রুটে রেললাইন স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা, ট্র্যাকশন সাবস্টেশন, ওভারহেড ক্যাটেনারি এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক স্থাপনার নকশা, সরঞ্জাম সংগ্রহ, স্থাপন, পরীক্ষা ও চালুর কাজ করা হবে। সিপি-১০ প্যাকেজে পুরো নেটওয়ার্কের সংকেত ও টেলিযোগাযোগব্যবস্থার পাশাপাশি প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন করা হবে।
৩ মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা
ঢাকার গণপরিবহনব্যবস্থা সম্প্রসারণে সরকার তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য সম্মিলিতভাবে প্রায় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করেছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প তিনটি অনুমোদন ও সংশোধনের প্রস্তাব গৃহীত হয়।
প্রকল্পগুলো হলো—বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১, হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫-এর উত্তর রুট এবং গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণ রুট।
এর মধ্যে এমআরটি লাইন-১-এর সংশোধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪.৮৯ কোটি টাকা। হেমায়েতপুর–ভাটারা রুটের এমআরটি লাইন-৫-এর উত্তর অংশে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮.৩৬ কোটি টাকা। নতুন এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণ রুট বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩.৭৬ কোটি টাকা।
লাইন-১ হবে প্রায় ৩১ কিলোমিটার
প্রায় ৩১.২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পে দুটি রুট রয়েছে। বিমানবন্দর রুটটি কমলাপুর থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। অন্যদিকে পূর্বাচল রুটটি নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত যাবে। প্রকল্পে মোট ১৯টি স্টেশন এবং পিতলগঞ্জে একটি ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিমানবন্দর–কমলাপুর অংশের অধিকাংশ পথ ভূগর্ভস্থ হবে। পূর্বাচল অংশে উড়াল ও ভূগর্ভস্থ—দুই ধরনের অবকাঠামো থাকবে।
এলঅ্যান্ডটি এর আগে বাংলাদেশের প্রথম চালু মেট্রোরেল করিডর এমআরটি লাইন-৬-এর সমন্বিত রেলব্যবস্থা স্থাপনের কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে লাইন-১-এর বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা সমন্বিতভাবে স্থাপন ও চালুর কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
এলঅ্যান্ডটির পরিবহন অবকাঠামো বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান রামকুমার এস বলেন, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে নতুন করে কাজ পাওয়ায় বৃহৎ ও সমন্বিত নগর পরিবহন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা প্রতিফলিত হয়েছে।
ঢাকার যানজট কমানো, যাতায়াতের সময় সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব প্রকল্পের সুফল নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ ও কার্যকর পরিচালনব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর।