January 28, 2026, 3:46 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলঅইন
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের অরক্ষিত অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) কাছে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করতে হবে। বিশেষ করে যেসব জমির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করেছে, সেসব জমি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সীমান্তের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় রাজ্য সরকারের যেকোনো ধরনের বিলম্বকে আদালত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের একটি বড় অংশ অরক্ষিত থাকায় অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। এ ইস্যুতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে আইনি বিরোধও শুরু হয়।
শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার জমি হস্তান্তরে ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করছে। এ নিয়ে প্রধান বিচারপতি রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং জানতে চান, জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কেন দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে না।
আদালত পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন, ‘সোশ্যাল ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ বা সামাজিক প্রভাব মূল্যায়নের মতো দাপ্তরিক অজুহাত দেখিয়ে এ ধরনের অতিগুরুত্বপূর্ণ কাজ দীর্ঘায়িত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্র ইতোমধ্যেই রাজ্য সরকারকে অর্থ প্রদান করেছে। তবে যেসব এলাকায় এখনো রাজ্য মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মেলেনি, সেখানে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণ সম্ভব কি না—সে বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় পক্ষকে বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতিরা বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা কেবল একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; এটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই কোনো আইনি জটিলতা যেন এই নির্মাণকাজে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে রাজ্য সরকারকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্টের এ আদেশে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সীমান্ত সুরক্ষা প্রকল্পে নতুন গতি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালত আগামী ২ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন। ওই দিন জমি হস্তান্তরের অগ্রগতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
এই নির্দেশনার ফলে বিএসএফ তাদের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারবে, যা দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারি জোরদারে এ পদক্ষেপটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাশিত ছিল।