February 12, 2026, 2:56 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বেনাপোল–পেট্রাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করাই এ সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। তবে নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের পাশাপাশি এই পদক্ষেপের রয়েছে ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক বহুমাত্রিক প্রভাব।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোর ৬টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ভোর ৬টা পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থলসীমান্ত দিয়ে কোনো পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার করতে পারবেন না। নির্বাচনকে ঘিরে সীমান্ত এলাকায় সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ, নাশকতা, অবৈধ যাতায়াত কিংবা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা মোকাবিলায় এটি একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের দিন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা বিশ্বব্যাপী একটি প্রচলিত কৌশল। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কেন্দ্রীভূত থাকে এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক ঝুঁকি কমে আসে।
ইতিহাসের ধারায় ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত/
বেনাপোল–পেট্রাপোল রুট দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ব্যস্ত স্থলসীমান্ত। ১৯৪৭ সালের পর থেকে এখানে যাত্রী চলাচল অব্যাহত রয়েছে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা বৈশ্বিক মহামারি—কোনো পরিস্থিতিতেই পুরোপুরি ইমিগ্রেশন বন্ধ হয়নি।
সেই প্রেক্ষাপটে জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে প্রথমবারের মতো পূর্ণ ২৪ ঘণ্টা যাত্রী চলাচল স্থগিত করা প্রশাসনিক সতর্কতার এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি নির্বাচনকে ঘিরে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ভাবনার পরিবর্তিত মাত্রাকেও ইঙ্গিত করে।
সীমান্তনির্ভর মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব/
বেনাপোল দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও পারিবারিক প্রয়োজনে এই পথ ব্যবহার করেন।
মাত্র এক দিনের বন্ধও অনেকের জন্য বাস্তব সমস্যার কারণ হতে পারে—বিশেষত চিকিৎসা নিতে ভারতে যাওয়া রোগী ও ব্যবসায়িক সফরে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। আগে গুরুতর অসুস্থদের জন্য সীমিত আকারে পারাপারের সুযোগ রাখা হলেও এবার তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বল্প সময়ের জন্য হলেও সীমান্তে যাত্রী চলাচল বন্ধ হওয়া স্থানীয় পরিবহন, হোটেল, ছোট ব্যবসা ও সেবাখাতের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও সময়কাল সংক্ষিপ্ত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের আশঙ্কা কম।
এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচনকে ঘিরে রাষ্ট্র সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে–এমন একটি বার্তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা একদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা, অন্যদিকে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা রক্ষার প্রতীকী পদক্ষেপও বটে।
প্রশাসন জানিয়েছে, ১৩ ফেব্রুয়ারি ভোর ৬টার পর থেকেই স্বাভাবিক নিয়মে যাত্রী পারাপার শুরু হবে। অর্থাৎ এটি দীর্ঘস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নয়; বরং নির্বাচনকেন্দ্রিক অস্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা।