February 24, 2026, 12:50 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
রমজানের মনস্তাত্ত্বিক অস্থিরতা ও সংসদ সদস্য আমির হামজার পদক্ষেপ জনস্বার্থে সক্রিয় উদ্যোগ/প্রশাসনের সমন্বয়ে বাজার তদারকিতে এমপি আমির হামজা সাত মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা: লক্ষ্যভ্রষ্ট এনবিআর, নীতিগত ব্যর্থতায় ইউনুস সরকার কুষ্টিয়ায় এমপির উপস্থিতিতে ‘মরাল পুলিশিং’ বিতর্ক, ঐ পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড, যা জানা যাচ্ছে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ বিবরণী দাখিল না করা/ কুষ্টিয়ায় আতার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা নিষেধাজ্ঞা বহাল, কিছু জায়গায় কার্যালয়ে উপস্থিতি—কোন পথে আওয়ামী লীগ? নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, বাবা-ছেলেসহ নিহত ৪ বঙ্গভবনের নিভৃত দেয়ালে দেড় বছর—রাষ্ট্রপতির বয়ান ও রাজনীতির অনুরণন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে হত্যা মামলা প্রত্যাহার না করায় সাক্ষীর ওপর হামলা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী ও তাদের জয়-পরাজয় সমাচার

রমজানের মনস্তাত্ত্বিক অস্থিরতা ও সংসদ সদস্য আমির হামজার পদক্ষেপ

ড. আমানুর আমান, সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর, দৈনিক কুষ্টিয়া ও দি কুষ্টিয়া টাইস/
শুধু রমজান মাস নয়; সামান্য ছুতোই যেমন-একটু বেশী রোদ, একটু বৃষ্টি, একটু খরা, একটু বেশী শীত– আমাদের বাজার ব্যবস্থা এক বিশেষ সংবেদনশীল সময়ের মধ্যে চলে যায়। এসময় কখনো চাহিদা বৃদ্ধি,কখোনও সরবরাহের চাপ—এসবই, মনস্তাত্ত্বিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে—সব মিলিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ে। বর্তমানে মুসলমান সম্প্রদায়ের রোজা চলছে; পবিত্র এই রোজা হয়ে উঠেছে ব্যবসায়ীদের দাাম বাড়ানোর অজুহাত। যথারীতি চলছে জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর মচ্ছব ; কারন ও কারন ছাড়াও। এমন প্রেক্ষাপটে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি বাজার তদারকিতে অংশ নেওয়ার উদ্যোগটি স্বাভাবিকভাবেই জনআলোচনায় এসেছে। কারন অকীতে এই জেলাতে এ ধরনের উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তাই জনগন এটাকে অন্যভাবে দেখছে; বলা হচ্ছে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এ ধরনের পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে সাধুবাদযোগ্য।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধির প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের স্বার্থরক্ষা ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, বাজার এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তবতা নির্ধারিত হয়। তাই বাজারদর নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনের সমন্বিত উপস্থিতি ইতিবাচক বার্তা দেয়। এটি একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে, অন্যদিকে ভোক্তাদের মধ্যেও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করে।
এমপি আমির হামজার এই উদ্যোগের গুরুত্ব একটি নীতিগত অবস্থানের প্রতিফলন। যখন কোনো সংসদ সদস্য নিজে উপস্থিত থেকে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন, ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখেন—তখন সেটি প্রতীকী নয়, বরং বাস্তব দায়বদ্ধতার ইঙ্গিত বহন করে। রমজানের মতো ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ ধরনের সক্রিয়তা সামাজিক সংবেদনশীলতারও বহিঃপ্রকাশ।
অবশ্য বাজার তদারকি শুধু জরিমানা আর অভিযানেই সীমাবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা—সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করা, পাইকারি ও খুচরা বাজারের মধ্যে তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা, এবং ন্যায্যমূল্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। জনপ্রতিনিধির উদ্যোগ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা নীতিনির্ধারণী ও কাঠামোগত পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হয়। এ দিক থেকেও ভবিষ্যতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।
এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—নিরপেক্ষতা। বাজার তদারকি যেন কোনো রাজনৈতিক প্রদর্শন না হয়ে ওঠে, বরং হয় একটি নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ। প্রশাসনের আইনানুগ কার্যক্রমে সহায়তা করা এবং তা স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা নিশ্চিত করা—এই ভারসাম্য রক্ষা করাই একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির প্রকৃত পরীক্ষা। এখন পর্যন্ত যে বার্তা পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এটি একটি সমন্বিত প্রয়াস হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমরা প্রায়ই দেখি, সংকটকালে নানা অনিয়ম মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি কিংবা মজুতদারির অভিযোগ নতুন নয়। শুধু চাহিদা বাড়লেই তো দাম বাড়ার কথা নয় কারন সরবরাহে তো ঘাটতি নেই। তাই সময়োপযোগী নজরদারি বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রেও মনে রাখতে হবে—ব্যবসায়ীরাও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের সঙ্গে আলোচনাভিত্তিক, সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখাই টেকসই সমাধানের পথ খুলে দেয়।
আমরা বলতে চাই/
রমজান এলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার বিষয়টি প্রায়শই “চাহিদা বেড়েছে” — এই একমাত্র যুক্তিতে ব্যাখ্যা করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা শুধু সরবরাহ-চাহিদার অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ব্যবসায়ীদের মানসিকতা ও নৈতিক অবস্থানও। রোজা আত্মসংযম, সহমর্মিতা ও সংহতির শিক্ষা দেয়। সেই সময় অতিরিক্ত মুনাফার মানসিকতা সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—এ কথাটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি।
ব্যবসায়ীরাও এই সমাজের অংশ, তারাও মুসলিম, তারাও রোজা রাখেন। তাই কেবল প্রশাসনিক জরিমানা নয়, প্রয়োজন নৈতিক আহ্বান—রমজানের চেতনার সঙ্গে বাণিজ্যিক আচরণকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ। লাভ করা অপরাধ নয়, কিন্তু অযৌক্তিক মুনাফা সমাজে আস্থাহীনতা তৈরি করে এবং ধর্মীয় সংবেদনশীলতার পরিপন্থি হয়ে দাঁড়ায়—এই উপলব্ধি জাগ্রত করাই মূল চ্যালেঞ্জ।
এ প্রেক্ষাপটে প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে সংসদ সদস্যের বাজার তদারকি উদ্যোগটি ফলপ্রসূ হতে পারে, যদি তা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি নৈতিক সচেতনতা সৃষ্টির প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত হয়। নিয়মের প্রয়োগ ও মূল্যবোধের চর্চা—দুটো একসঙ্গে চললে তবেই রমজানে বাজার সত্যিকার অর্থে সংযম ও সহমর্মিতার প্রতিফলন ঘটাতে পারবে।
মুফতি আমির হামজার এ উদ্যোগকে তাই একক কোনো ঘটনার দৃষ্টিতে নয়, বরং একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা যেতে পারে। যদি এ তৎপরতা নিয়মিত ও কাঠামোবদ্ধ রূপ পায়, তবে তা স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের জন্যও এটি একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হতে পারে—কীভাবে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জনস্বার্থে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়া যায়।
সবশেষে বলা যায়, জনস্বার্থে সক্রিয়তা সবসময়ই স্বাগত। তবে সেই সক্রিয়তা যেন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়, ধারাবাহিক হয় এবং সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর থাকে—এটাই প্রত্যাশা। রমজানের প্রেক্ষাপটে বাজার তদারকির এই উদ্যোগ সেই প্রত্যাশাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। এখন সময়ই বলে দেবে, এটি কতটা দীর্ঘস্থায়ী ও ফলপ্রসূ হয়ে উঠতে পারে।

=

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net