February 24, 2026, 11:24 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
রমজানের মনস্তাত্ত্বিক অস্থিরতা ও সংসদ সদস্য আমির হামজার পদক্ষেপ জনস্বার্থে সক্রিয় উদ্যোগ/প্রশাসনের সমন্বয়ে বাজার তদারকিতে এমপি আমির হামজা সাত মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা: লক্ষ্যভ্রষ্ট এনবিআর, নীতিগত ব্যর্থতায় ইউনুস সরকার কুষ্টিয়ায় এমপির উপস্থিতিতে ‘মরাল পুলিশিং’ বিতর্ক, ঐ পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড, যা জানা যাচ্ছে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ বিবরণী দাখিল না করা/ কুষ্টিয়ায় আতার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা নিষেধাজ্ঞা বহাল, কিছু জায়গায় কার্যালয়ে উপস্থিতি—কোন পথে আওয়ামী লীগ? নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, বাবা-ছেলেসহ নিহত ৪ বঙ্গভবনের নিভৃত দেয়ালে দেড় বছর—রাষ্ট্রপতির বয়ান ও রাজনীতির অনুরণন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে হত্যা মামলা প্রত্যাহার না করায় সাক্ষীর ওপর হামলা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী ও তাদের জয়-পরাজয় সমাচার

সাত মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা: লক্ষ্যভ্রষ্ট এনবিআর, নীতিগত ব্যর্থতায় ইউনুস সরকার

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/

২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই–জানুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ১১৩ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় নীতিগত দুর্বলতা ও প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে—যা সরাসরি দায় চাপায় পূর্বতন ইউনুস নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর।
এনবিআর সূত্র জানায়, আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। বিপরীতে আদায় হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা। বিশাল লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা স্পষ্টতই অপ্রতুল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবৃদ্ধির হার দেখিয়ে সান্ত্বনা নেওয়ার সুযোগ নেই; বাস্তবতা হলো—রাজস্ব আহরণে কাঙ্ক্ষিত গতি আনতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আমদানি সংকোচন, ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্থর গতি এবং কর প্রশাসনে সমন্বয়হীনতা—সব মিলিয়ে রাজস্ব খাত কার্যত চাপে।
আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক—সবখানেই ঘাটতি/
প্রথম সাত মাসে সবচেয়ে বড় ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে—২৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। এই সময়ে আয়করের লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৭৫ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। করজালের সম্প্রসারণ ও উচ্চ আয়ের গোষ্ঠীকে কার্যকরভাবে আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
আমদানি পর্যায়ে শুল্ক ঘাটতি হয়েছে ১৫ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। লক্ষ্য ছিল ৭৮ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৬২ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। আমদানি নিয়ন্ত্রণ নীতির প্রভাব রাজস্ব আদায়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ভ্যাট খাতে লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৮৫ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা—ঘাটতি ১৫ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। ভ্যাট আদায় তুলনামূলক বেশি হলেও লক্ষ্যভ্রষ্টতার হার এখানেও উদ্বেগজনক।
জানুয়ারিতেও মন্দাভাব/
একক মাস হিসেবেও জানুয়ারিতে রাজস্ব পরিস্থিতি হতাশাজনক। এ মাসে ৫২ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৩৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক মাসেই ঘাটতি প্রায় সোয়া ১৫ হাজার কোটি টাকা।
জানুয়ারিতে আয়করের লক্ষ্য ছিল ১৮ হাজার ৫৭৪ দশমিক ৫৭ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ১৩ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা। ভ্যাটে ২০ হাজার ৪৭৫ দশমিক ৫৭ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় ১৫ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা। শুল্কে ১৩ হাজার ৪৯৫ দশমিক ৪৩ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা।
সামনে কী চ্যালেঞ্জ/
বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব ঘাটতি অব্যাহত থাকলে সরকারকে বাড়তি ঋণনির্ভর হতে হবে—দেশীয় ব্যাংকিং খাত কিংবা বৈদেশিক উৎস থেকে। এতে সুদের চাপ বাড়বে, উন্নয়ন ব্যয় সংকুচিত হতে পারে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি আরও চাপের মুখে পড়বে।
ইউনুস সরকার ক্ষমতায় এসে রাজস্ব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর যে অঙ্গীকার করেছিল, সাত মাসের বাস্তবতা সেই প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। করফাঁকি রোধ, করজাল সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক সংস্কারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে অর্থবছরের শেষে ঘাটতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, এখনই কার্যকর নীতি সমন্বয়, কর প্রশাসনে জবাবদিহি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিশ্চিত করা না গেলে রাজস্ব সংকট সামাল দেওয়া কঠিন হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net