February 26, 2026, 10:36 am

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট সমাজ সংগঠক, সাংবাদিক, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি-এর কেন্দ্রীয় পরিচালনা পর্ষদ সদস্য ও কুষ্টিয়া ডাযাবেটিক সমিতির চেয়ারম্যান মতিউর রহমান লালটুর স্ত্রী নিলাফার রহমান এ্যানী ২৫ ফেব্রুয়ারি, বুধবার আমেরিকার বোস্টন শহরে বোস্টন সময় সময় দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে বেথ ইসরাইল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সেখানে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
নিলুফার এ্যানী জীবদ্দশায় মতিউর রহমান লালটুর একান্ত সহচর হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন।
তিনি শুধু একজন নারী নন—তিনি ছিলেন মমতা, সৌন্দর্য ও মর্যাদার এক অনন্য প্রতিমূর্তি। অত্যন্ত স্নেহশীলা, নম্র ও হৃদয়বান মানুষ হিসেবে তিনি সবার কাছে ছিলেন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গায়। তাঁর উপস্থিতি ঘরকে যেমন আলোকিত করত, তেমনি তাঁর কথায় ও আচরণে ফুটে উঠত এক গভীর মানবিকতা।
তিনি ছিলেন এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের স্নেহময়ী জননী।
ঐতিহ্যবাহী ও সম্মানিত এক পরিবারের কন্যা হিসেবে তিনি বেড়ে উঠেছিলেন মূল্যবোধ, সংস্কার ও সৌজন্যের পরিমণ্ডলে। সেই পারিবারিক ঐতিহ্যের গাম্ভীর্য ও সৌন্দর্য তাঁর ব্যক্তিত্বে প্রতিফলিত হয়েছিল সারাজীবন।
তিনি ছিলেন প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এসআর খান–এর সহোদরা। ঐতিহ্যবাহী পরিবারের কন্যা হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল ব্যাপক। তাঁর ব্যক্তিত্ব, ভদ্রতা ও মানবিক গুণাবলীর জন্য তিনি সবার কাছে ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধার।
পরিবারের এই গৌরবময় পরিচয়ের পাশাপাশি নিজের স্বতন্ত্র গুণাবলীতেও তিনি ছিলেন উজ্জ্বল ও অনন্য।
তাঁর জীবন ছিল নীরব আলো ছড়িয়ে দেওয়ার মতো—প্রচারের আড়ালে থেকেও তিনি স্পর্শ করেছেন অসংখ্য হৃদয়। তাঁর প্রস্থান শুধু পরিবারের নয়, পরিচিত সকলের হৃদয়ে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে। তাঁর স্মৃতি, তাঁর স্নেহ, তাঁর মানবিকতা চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তাঁর ইন্তেকালের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী, পরিচিতজন থেকে শুরু করে সমাজের নানা স্তরের মানুষ তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।
ফলে তাঁর প্রস্থানকে অনেকেই অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী বিভিন্ন মহলের প্রতিনিধিরা বলেছেন—তিনি ছিলেন নীরব সৌন্দর্য ও মর্যাদার প্রতীক, একজন আদর্শ মা এবং স্নেহময়ী মানুষ। তাঁদের মতে, তাঁর চলে যাওয়া শুধু একটি পরিবারের নয়, একটি মূল্যবোধের পরিসরের ক্ষতি।
সবাই তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন—তিনি যেন জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন।
সম্মিলিত সামাজিক জোটের চেয়ারম্যান ড. আমানুর আমান ও কুষ্টিয়া পাবলিক স্কুলের ব্যবস্থপনা পরিচালক শাহনাজ আমান গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, মরহুমা ছিলেন একজন মার্জিত, মানবিক ও উচ্চ মূল্যবোধসম্পন্ন নারী, যাঁর জীবনযাপন ও আচরণ সমাজের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তারা উল্লেখ করেন, ঐতিহ্যবাহী পরিবারের কন্যা হিসেবে তিনি পারিবারিক সংস্কার ও নৈতিকতাকে ধারণ করেছিলেন দৃঢ়ভাবে। পাশাপাশি একজন স্নেহময়ী মা হিসেবে তিনি সন্তানদের লালন-পালনে দায়িত্বশীল ও নিবেদিত ছিলেন। তাঁর প্রস্থান কেবল একটি পরিবারের নয়, বৃহত্তর সামাজিক পরিমণ্ডলের জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি।
তারা বলেন, মানবিক গুণাবলি ও সৌজন্যবোধে সমৃদ্ধ এমন মানুষ সমাজে সবসময়ই প্রেরণার উৎস হয়ে থাকেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান এবং এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মরহুমার মরদেহ দেশে নিয়ে আসা হবে। সেখানে গুলশানের আজাদ মসজিদে জানাজার পর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা সম্ভাবনা রয়েছে যার তারিখ ও সময় পরিবার থেকে পরে জানানো হবে।