March 28, 2026, 1:27 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পরও যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন না আসায় উদ্বেগ বাড়ছে। দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই বাস ফেরিতে তোলার অভিযোগ উঠেছে।
কুষ্টিয়াগামী এক যাত্রী জানান, ২৫ মার্চ রাতে পাটুরিয়ার ৩ নম্বর ঘাট দিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় তিনি বাসে ছিলেন। তিনি কুষ্টিয়ার স্বনামধন্য একটি বাস সার্ভিসের এসি হুন্দাই পরিবহনে ছিলেন। তিনি বলেন, একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরও যাত্রীদের নামিয়ে নেওয়ার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এমনকি বাসের দরজা বন্ধ থাকায় কেউ চাইলে নামতেও পারেননি। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফেরিতে ওঠার রাস্তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ—আধাকাঁচা, কর্দমাক্ত ও অসমান। বাসগুলোকে সরাসরি নদীর কিনার ঘেঁষে চালিয়ে নিয়ে গিয়ে সংকীর্ণ মোড় ঘুরে ফেরিতে উঠতে হয়। বড় যানবাহনের ক্ষেত্রে একাধিকবার ব্যাক করে এই টার্ন নিতে হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
আরেক যাত্রী জানান, রাতের অন্ধকারে এই প্রক্রিয়া আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সামান্য ভুল হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ফেরির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও যাত্রীদের অভিযোগ রয়েছে। অনেকের মতে, ফেরিগুলো অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন, ওয়াশরুম ব্যবহার অযোগ্য, এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত নাজুক। তবুও যাত্রীরা বাধ্য হয়ে এসব পরিস্থিতি মেনে নিচ্ছেন।
২৬ মার্চ রাতেও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কথা জানান একাধিক যাত্রী। বড় আকারের বাস ফেরিতে তুলতে কয়েকবার চেষ্টা করতে হয়েছে, এবং পুরো প্রক্রিয়ায় যাত্রীদের বাসের ভেতরেই আটকে রাখা হয়েছে।
এত বড় দুর্ঘটনার পরও ঘাট এলাকায় প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে। একই সঙ্গে যাত্রীদের মধ্যেও এক ধরনের নির্লিপ্ততা লক্ষ্য করা গেছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্ঘটনা এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে ফেরি ও ঘাট অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি ফেরিতে ওঠা-নামার সময় যাত্রীদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা (SOP) প্রণয়ন, নিরাপত্তা জোরদার এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন আনা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়োপযোগী পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।