April 22, 2026, 5:52 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
পাবনায় পদ্মা নদীতে টহলরত নৌ পুলিশের একটি দলের ওপর দুর্বৃত্তদের অতর্কিত সশস্ত্র হামলায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পাঁচজন পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।
আহত পুলিশ সদস্যরা পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা নৌ ফাঁড়িতে কর্মরত
ঘটনাটি সীমান্তবর্তী নদী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিটের মধ্যে পদ্মা নদীর পাবনা সংলগ্ন কুষ্টিয়া জেলার হরিপুর অংশে এ ঘটনা ঘটে।
ওই সময় ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা নৌ ফাঁড়ির একটি টহল দল নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে সেখানে পৌঁছালে অজ্ঞাত পরিচয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছোড়ে।
এতে নৌ পুলিশের সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে কিছু সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে লক্ষীকুন্ডা নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শফিকুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া আহত হন পুলিশ সদস্য ইনামুল হক, শাহিনুর হক, নাজমুল হাসান ও মানিক মিয়া।
গুলিবিদ্ধদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মশিউর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নৌ টহল জোরদার করা হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, কুষ্টিয়ার পুলিশের দুটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বলছে, পদ্মা নদীর এই অংশটি দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং আন্তঃজেলা অপরাধী চক্রের বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। গভীর রাতের টহল চলাকালে হামলার ঘটনা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, সংঘবদ্ধ কোনো অপরাধী চক্র নিজেদের কার্যক্রম রক্ষা করতে এ হামলা চালাতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, সমন্বিত টহল এবং গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী নদী এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন, নৌ পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।