April 27, 2026, 11:09 am

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে মসুর ডাল আমদানির সাম্প্রতিক বড় ধরনের পতনকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এটি দেশের বাজারে চাহিদা, সরবরাহ কাঠামো ও আমদানি-নির্ভরতার একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রবণতার প্রতিফলন।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে ৬২২ টন মসুর ডাল আমদানি হয়েছিল, সেখানে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে তা নেমে এসেছে মাত্র ১৪৯ দশমিক ৯৮ টনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমদানি কমেছে প্রায় ৪৭২ টন, যা শতকরা হিসেবে প্রায় ৭৫ শতাংশ হ্রাস। সংশ্লিষ্টদের মতে, এত বড় পতন সরবরাহ সংকটের চেয়ে বরং বাজারে চাহিদা সংকোচনেরই ইঙ্গিত দেয়।
ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই চাহিদা হ্রাসের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কিছুটা বাড়ায় আমদানি নির্ভরতা কমেছে। পাশাপাশি ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় অনেকেই তুলনামূলক সস্তা বিকল্প খাদ্যপণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা, ডলার সংকট, শুল্ক এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিও আমদানিকারকদের নিরুৎসাহিত করছে।
তবে আশার দিক হলো—আমদানি কমলেও স্থানীয় বাজারে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। শহরের সুলতানপুর বাজারে দেখা গেছে, দেশি মসুর ডাল প্রতি কেজি ১২৫ টাকা, ভারতীয় ৯০ থেকে ৯৫ টাকা এবং নেপালি ডাল ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় কয়েক মাস ধরে দামও স্থিতিশীল রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পূর্ববর্তী সময়ে তুলনামূলক বেশি আমদানি এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ মিলিয়ে বাজারে পর্যাপ্ত মজুদ তৈরি হয়েছে। এই মজুদই বর্তমানে আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাব সামাল দিচ্ছে। তাদের মতে, কার্যকর মজুদ ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ চেইনের দক্ষতার কারণেই বাজারে কোনো অস্থিরতা তৈরি হয়নি।
তবে দীর্ঘমেয়াদে কিছু ঝুঁকির কথাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, আমদানির এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এবং একই সঙ্গে মজুদ বা অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমে গেলে বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি বা সরবরাহ বিঘ্নিত হলে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে মসুর ডাল আমদানির এ পতনকে “চাহিদা-নির্ভর সংকোচন” হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে বাজার স্থিতিশীল থাকলেও ভবিষ্যতের জন্য এটিকে একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।