July 21, 2026, 6:12 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।
ভিডিওটি প্রকাশের পর প্রথমদিকে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করা হয়। তবে পরে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার জানায়, তাদের অনুসন্ধানে ভিডিওটিতে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি বা সম্পাদনার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ভিডিও ও অডিও পৃথকভাবে বিশ্লেষণ করে তারা এটিকে প্রকৃত ভিডিও হিসেবে শনাক্ত করেছে।
এদিকে ভিডিও প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ভিডিওতে থাকা নারী গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এই বিয়ে হয়েছে। তবে বিয়ের সুনির্দিষ্ট সময় বা নিবন্ধনসংক্রান্ত কোনো তথ্য তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। একই সঙ্গে ভিডিওটি কীভাবে প্রকাশ্যে এলো, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিওটির সত্যতা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি প্রচারিত হয়। কিছু পোস্টে এটিকে এআই-নির্মিত বলা হলেও, অন্যদিকে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিবেদনে সেই দাবি নাকচ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাজী নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ভিডিও বা ছবি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় গোপনীয়তা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং তথ্য যাচাই—এই তিনটি বিষয়ই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ভিডিও বা ছবি ভাইরাল হওয়ার পর তা যাচাই ছাড়া প্রচার বা শেয়ার করা বিভ্রান্তি ও ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ হতে পারে।