January 16, 2026, 7:14 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার সদর উপজেলায় এয়ারগান নিয়ে পাখি শিকারের ঘটনায় বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা করা হচ্ছে। ঐ শিক্ষকের নৈতিক মান নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। রোববার (১১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
পাখি শিকার দন্ডনীয় অপরাধ। এই ঘটনা পাখি শিকার না করতে তার শিক্ষার্থীদের উদ্ববুদ্ধ করার বিরোধী বলে মনে করছেন সবাই। তারা মনে করেন এই শিক্ষককে শাস্তি প্রদান করা উচিত।
শাহজাহান আলী সদর উপজেলার স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আইসিটি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক। ভাইরাল দুই মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি শীতের পোশাক পরে হাতে এয়ারগান নিয়ে হাঁটছিলেন। ভিডিওতে এক তরুণ তাঁকে বাগ্বিতণ্ডা করতে বলতে থাকে, “আপনি পাখি মারছেন কেন?” শাহজাহান আলী বলেন, “খালি ন্যাটা পাকাচ্ছে, পাখি মারছি না। আমি হাইস্কুলের শিক্ষক, অন্যায় দেখতে আসিনি।”
ভিডিওতে তরুণের প্রশ্ন ছিল, “আপনি এই এলাকায় পাখি মারতে পারেন না। মারতেই পারেন না।” একপর্যায়ে তিনি ব্যাগ চেক করতে চাইলে বলেন, “আপনার সন্তানকে যদি গুলি করে, তখন কী করবেন!” ভিডিওতে তরুণ নিজেকে ইমাম পরিচয় দেন এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, “আজ ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে আরও অভিযোগ শুনেছি। প্রধান শিক্ষককে ডেকে ইউএনও শোকজ করতে বলেছেন।”
অভিযোগ প্রাপ্ত শিক্ষক শাহজাহান আলী পাখি শিকারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ভিডিওটি গত শুক্রবারের। আমার আড়াই বিঘার ওপর একটি পুকুর আছে। বক মাছ নিতে আসে, তাই ৫ বছর ধরে পুকুর রক্ষা করার জন্য এ এয়ারগান ব্যবহার করি। এটি পৈতৃক সম্পত্তি, আমার বাবা ব্যবহার করতেন। আমি পাখি শিকার করি না, অভিযোগ মিথ্যা।”
পাখি বিশেষজ্ঞ এসআই সোহেল মনে করেন, এটি ঐ শিক্ষকের একটি ভয়ংকর ধরনের নৈতিকদার অবক্ষয় প্রমাণ করে। তিনি মনে করেন, ৈএই ঘটনার শাস্তি দেয়া উচিত।
জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আবু তৈয়ব মো. ইউনুছ আলী বলেন, “আমি ভিডিওটি দেখিনি। শিক্ষকের এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
কুষ্টিয়ার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল আলম বলেন, “খোঁজ নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিসি ও ইউএনওর সহায়তা নেওয়া হবে।”
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় সভাপতি মো. রোকনুজজামান বলেন, “আমি ভিডিও দেখেছি। শিক্ষককে শোকজ করেছি। জবাব পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সামাজিক বন বিভাগকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”