February 11, 2026, 5:35 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের অবনমন: ইউনুস সরকারের আমলে চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা মেহেরপুরের গাংনীতে ভোটকেন্দ্রের পাশে ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার, সাময়িকভাবে আতঙ্ক রমজানের আগেই কুষ্টিয়ায় লেবুর দাম ঊর্ধ্বমুখী, বিপাকে ক্রেতা কুষ্টিয়ায় ভোটকেন্দ্র থেকে সিসি ক্যামেরা চুরি প্রচার শেষ, ভোটের অপেক্ষায় দেশ/কঠোর বিধিনিষেধে থেমেছে নির্বাচনী প্রচারণা ব্যালটে সমতা, ক্ষমতায় বৈষম্য: নারী ভোটারদের শক্তি ও রাজনৈতিক বাস্তবতার দ্বন্দ্ব কূটনীতি, ক্রিকেট ও দ্বৈত মানদণ্ড: আইসিসি সিদ্ধান্তে প্রশ্নে বাংলাদেশ–পাকিস্তান খুলনার বেশ কয়েকটি আসনে বিদ্রোহীরা বিএনপিকে চাপে রাখছে, জামায়াত তুলনামূলক স্বস্তিতে কুষ্টিয়া কারাগারে হাজতির অস্বাভাবিক মৃত্যু, পুলিশ বলছে আত্মহত্যা বিএনপি-জামাতের ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা

দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের অবনমন: ইউনুস সরকারের আমলে চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) ২০২৫ সালের দুর্নীতির ধারণাসূচক (CPI) প্রতিবেদন বাংলাদেশের জন্য নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম এবং স্কোর ২৪—যা আগের বছরের তুলনায় আরও এক ধাপ পিছিয়ে পড়ার ইঙ্গিত দেয়। টিআইবি এই অবস্থানকে হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছে, যা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে চলমান দুর্বলতাকেই সামনে আনে।
ইউনুস সরকারের আমলে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান জোরালোভাবে উচ্চারিত হলেও বাস্তব চিত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে অর্থপাচার রোধ, ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। এসব দুর্বলতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
টিআইবি তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আগের তুলনায় কমেছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত হওয়া এবং দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত পরিবেশ না থাকাও উদ্বেগের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও সমালোচনার সুযোগ সংকুচিত হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে পড়ে—এটি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাতেও প্রমাণিত।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। যেখানে ভুটান ও ভারত তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের এই অবনমন নীতিনির্ধারকদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে, ডেনমার্কের মতো দেশ দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে শীর্ষে থাকা প্রমাণ করে যে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে উন্নতি সম্ভব।
টিআই-এর প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা দুর্বল, সেখানে দুর্নীতির প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ও জবাবদিহি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে।
দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের অবনমন কোনো একক সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে দেখার চেয়ে এটি একটি কাঠামোগত ও দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করাই যুক্তিসংগত। ইউনুস সরকারের সামনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ—প্রতিবেদনটিকে সমালোচনা হিসেবে না দেখে নীতিগত সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির দিকনির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করার। কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত হওয়াও অসম্ভব নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728 
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net