April 15, 2026, 11:46 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ—এসব কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল হাসান ও বিচারপতি আমিরুল ইসলা শাহিন এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
এর আগে ২ মার্চ ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ স্থগিত চেয়ে করা রিটের ওপর আদেশের জন্য দিন ধার্য ছিল।
২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫’-এর কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে দায়ের করা রিট শুনানির জন্য ১ মার্চ দিন নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষ সময়ের আবেদন করলে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি জিয়াউর হক–এর বেঞ্চ বিষয়টি নতুন তারিখে ধার্য করেন।
‘জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫’-এর কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী Yunus Ali Akand রিট আবেদনটি করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. দোলোয়ার হোসেন খান। শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সরকারের পক্ষ থেকে সময় নেওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক ঘোষিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫’-এর আওতায় গণভোট আয়োজন অসাংবিধানিক ও অবৈধ। এতে দাবি করা হয়, সনদের অধীনে গণভোট আয়োজন সংবিধানের ৬৫, ১২৩ (৩) ও (৪) এবং ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি, পাশাপাশি আরপিও’র ১১ অনুচ্ছেদেরও বিরোধী।
পাশাপাশি রিটে ‘জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫’ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা চেয়ে রুল প্রার্থনা করা হয়েছে এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সনদের কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করা অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করে। সেই ধারাবাহিকতায় ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়।
হাইকোর্টের জারি করা রুলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি পরবর্তী শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।