September 12, 2026, 3:46 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
পদ্মায় হঠাৎ প্লাবন: দুই ইউনিয়নে ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, বন্ধ ২৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দলীয় প্রতীক ও মনোনয়ন নেই, ‘বৈধ প্রার্থী’ হলে সবার অংশগ্রহণের সুযোগ থাপ্পরকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই পরীক্ষায় অসদুপায়ে ধরা ইবির সেই ছাত্রদল কর্মী গাংনীতে দর্জি প্রশিক্ষণের ভাতা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি প্রশিক্ষণার্থীদের ঝিনাইদহে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, শরীরে ২০টি আঘাতের চিহ্ন, পূর্বশত্রুতার কথা বলছে পুলিশ খাতা চ্যালেঞ্জে রেকর্ড পরিবর্তন: এসএসসির মূল্যায়নব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন ইবির চারুকলা বিভাগে শিক্ষার্থীদের তালা, সেশনজট ও নানা সমস্যার অভিযোগ আগস্টে ৩৪৮ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি জাতীয় পরিচয়পত্রে ছবি বাদ দেওয়ার চেষ্টা, হাইকোর্টের রায়ে থামল নতুন বিতর্ক মিরপুরে টাপেন্টাডলের বড় চালানসহ গ্রেপ্তার ১

আনন্দে বরণ নতুন বছর—আজ পহেলা বৈশাখ

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা বর্ষপঞ্জিতে যুক্ত হলো নতুন বছর ১৪৩৩ বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ আজ উদযাপিত হচ্ছে দেশজুড়ে নানা আয়োজনে।
গতকাল ছিল চৈত্র সংক্রান্তি—বাংলা বছরের শেষ দিন। পুরাতন বছরের জীর্ণতা, গ্লানি ও ক্লেদ মুছে ফেলে নতুনকে বরণ করার প্রত্যয়ে আজকের এই দিনকে স্বাগত জানায় বাঙালি। বিদায়ী সূর্যের কাছে পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুন স্বপ্ন, আশা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের আহ্বানই যেন পহেলা বৈশাখের মূল বার্তা।
পহেলা বৈশাখ বাঙালির সাম্প্রদায়িকতা ও সংকীর্ণতা ভুলে উদার ও মানবিক জীবনবোধে উদ্বুদ্ধ করে। এ দিনটি বাঙালির জাতিসত্তা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক গর্বিত বহিঃপ্রকাশ। বর্ষবরণের মাধ্যমে নতুন করে জেগে ওঠে বাঙালিয়ানা ও স্বাজাত্যবোধ।
এটি বাঙালির একটি সর্বজনীন লোকউৎসব। ভোরের প্রথম আলোয় নতুন দিনের সূচনা হয় আনন্দ, গান, শোভাযাত্রা ও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। রাজধানীসহ সারাদেশে বর্ষবরণ উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। দিনটি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হচ্ছে।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীসহ বিশ্বজুড়ে বাঙালিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বাংলা সনের ইতিহাস বহু পুরোনো হলেও এর প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌর সনের সমন্বয়ে নতুন একটি বর্ষপঞ্জি প্রবর্তন করা হয়, যা প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল। সম্রাটের নির্দেশে জ্যোতির্বিদ ফতেউল্লাহ সিরাজী এই সন প্রণয়ন করেন, যা পরবর্তীতে ‘বঙ্গাব্দ’ বা বাংলা সন হিসেবে পরিচিতি পায়।
মূলত কৃষিকাজের সুবিধার্থে এ সন চালু করা হয়, যাতে ফসল উৎপাদনের সময়ের সঙ্গে খাজনা আদায়ের সময়ের সামঞ্জস্য থাকে। ১৫৫৬ সালে এর সূচনা হলেও ১৫৮৫ সাল থেকে তা কার্যকরভাবে চালু হয়।
বাংলা নববর্ষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসও। পাকিস্তান আমলে বর্ষবরণ বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে। ষাটের দশকের শেষে রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজন নতুন মাত্রা পায়। স্বাধীনতার পর এটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা, যা ২০১৬ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায়।
বর্তমানে পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে—যেখানে ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি নির্বিশেষে সবাই মিলিত হয় আনন্দ আর উৎসবের বন্ধনে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net