May 15, 2026, 4:57 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
জ্যৈষ্ঠের প্রথম দিনেই রাজশাহীতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে আম সংগ্রহ। গাছ থেকে সীমিত পরিসরে গুটি আম নামানোর মধ্য দিয়ে শুধু মৌসুমের সূচনাই নয়, প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ আম অর্থনীতিতে। বাগান, হাট, আড়ত, পরিবহন ও শ্রমঘন কর্মকাণ্ড ঘিরে ইতোমধ্যেই সরগরম হয়ে উঠতে শুরু করেছে রাজশাহীর আমপাড়া অঞ্চলগুলো।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় ১৯ হাজার ৬৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন। সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৭৮০ কোটি টাকার বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার রাজশাহীর আম মৌসুমে কৃষক ও ব্যবসায়ী—উভয়েরই ভালো লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের ঘোষিত ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী শুক্রবার (১৫ মে) সকাল থেকে গুটি আম নামানোর অনুমতি কার্যকর হয়। সেই অনুযায়ী নগরীর পবা উপজেলার কুখন্ডী ও বুধপাড়া এলাকায় কিছু বাগানে আম পাড়তে দেখা গেছে। যদিও চাষিরা বলছেন, অধিকাংশ গাছের আম এখনও পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি। ফলে আপাতত সীমিত আকারেই বাজারে আসছে আম।
তবে মৌসুমের শুরুতেই স্থানীয় বাজারে কাঁচা আমের পাশাপাশি গুটি আমের উপস্থিতি দেখা গেছে। রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর হাটেও শুরু হয়েছে আম বেচাকেনার প্রস্তুতি। জাত ও আকারভেদে বর্তমানে গুটি আম ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
আম ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, “জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময় মেনেই আম সংগ্রহ করা হচ্ছে। এখনো আম পুরোপুরি পাকেনি। তাই খুব বেশি আম নামানো হচ্ছে না। তবে কয়েকদিন পর বাজার জমে উঠবে।”
আমচাষী আরিফুল ইসলাম জানান, কয়েকটি গাছ থেকে গুটি আম সংগ্রহ শুরু করেছেন তিনি। নিজেই বাজারে নিয়ে বিক্রি করবেন। তবে বাজারে এখনো সবচেয়ে বেশি আগ্রহ গোপালভোগ ও হিমসাগর ঘিরে। এসব জনপ্রিয় জাতের আম বাজারে আসতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অপরিপক্ব আম বাজারজাত বন্ধ এবং আমের গুণগত মান নিশ্চিত করতেই নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করা হচ্ছে। ঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ২২ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ, ৩০ মে হিমসাগর ও খিরসাপাত বাজারে আসবে। এছাড়া ১০ জুন ল্যাংড়া ও বানানা ম্যাঙ্গো, ১৫ জুন আম্রপালি ও ফজলি সংগ্রহ করা যাবে।