August 13, 2026, 10:40 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
বিয়ে ও বিচ্ছেদের নথি জাল করে প্রতারণার অভিযোগে কুষ্টিয়ায় এক আইনজীবীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক গৃহবধূ। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আইনজীবী পি.এম. সিরাজুল ইসলাম, মহিদুল ইসলাম মিশন (৩৬) ও অমিত হাসান (৪০)।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, পি.এম. সিরাজুল ইসলাম কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতি থেকে বহিষ্কৃত এবং নোটারি পাবলিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) কুষ্টিয়া অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের আদেশে ওই নারীর এজাহারটি আমলে নিয়ে মামলাটি রেকর্ড করা হয়। আদালত এজাহারটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কী অভিযোগ ওই নারীর
মামলার এজাহার অনুযায়ী, মহিদুল ইসলাম মিশনের সঙ্গে ওই নারীর বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। তাদের আট বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে।
ওই নারীর অভিযোগ, যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় তার অজ্ঞাতে মহিদুল ইসলাম দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, ওই মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে আপস-মীমাংসার কথা বলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে কুষ্টিয়ায় আইনজীবী পি.এম. সিরাজুল ইসলামের চেম্বারে অমিত হাসানের সহযোগিতায় তার বিরুদ্ধে একটি তালাকনামা এবং পুনরায় বিয়ের কাবিননামা তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একই সময় দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার নামে আরেকটি তালাকনামা এবং ওই নারীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবনে ফিরে আসার অঙ্গীকারসংবলিত একটি এফিডেভিট তৈরি করা হয়েছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই নারী অভিযোগ করেন, পরবর্তী সময়ে এসব নথির শর্ত মানা হয়নি। এরপর তিনি আবারও আদালতের শরণাপন্ন হন।
তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ
পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাইসহ তদন্ত শুরু হয়েছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি (তদন্ত) পুলিশ পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভুয়া কাবিননামা, তালাকনামা ও কোর্ট ম্যারেজের নামে এফিডেভিট তৈরির অভিযোগ বিভিন্ন সময় পাওয়া গেছে। এই মামলায় একজন নারী সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলা নম্বর ১৩; তারিখ ১১ আগস্ট ২০২৬। পুলিশ জানিয়েছে, দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৬৯ ও ৪৭১ ধারায় মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
নথির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিয়ে, তালাক ও পারিবারিক সম্পর্কের নথি একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি তার আইনগত অধিকার নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ। এসব নথিতে ভুল বা জাল তথ্য থাকলে নারী ও শিশুর অধিকার, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার এবং পারিবারিক অবস্থান নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও বিয়ের সঠিক বয়স ও পরিচয়সংবলিত নথির গুরুত্ব রয়েছে। বয়স গোপন বা পরিবর্তন করে বিয়ে নিবন্ধনের মতো ঘটনা ঘটলে একটি শিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে আইন মেনে চলার পাশাপাশি সরকারি ও আইনগত নথির সঠিকতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
তবে মামলায় অভিযোগ ওঠা এবং অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। এ মামলার অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হবে এবং শেষ পর্যন্ত আদালতের আইনগত প্রক্রিয়াতেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারীর আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়াও ন্যায়বিচারের অপরিহার্য অংশ।
মামলার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পি.এম. সিরাজুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।