September 20, 2026, 2:48 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার হাব স্থাপনের লক্ষ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ব্র্যাকের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অফিসের কনফারেন্স রুমে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সমঝোতা স্মারকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী এবং ব্র্যাকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ব্র্যাকের হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ক্লাস্টারের সিনিয়র ডিরেক্টর সাফি রহমান খান।
সমঝোতা স্মারকের মূল উদ্দেশ্য হলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘ক্যারিয়ার হাব’-এর একটি অফিস স্থাপন ও পরিচালনা করা। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম বর্ষ থেকে মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন, বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং চাকরির বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরিতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যে দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ক্যারিয়ার হাব।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান।
উপস্থিত ছিলেন ইবির সেন্ট্রাল ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুল ইসলাম, প্রশাসন গঠিত কমিটির আহবায়ক কাজী মোস্তফা আরিফসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
ব্র্যাকের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ক্লাস্টারের সিনিয়র ডিরেক্টর সাফি রহমান খান, ক্যারিয়ার হাবের ম্যানেজার (এমপ্লয়মেন্ট) মো. আলিউল আজীম, ব্র্যাক স্কিলস ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামের ক্যারিয়ার হাব প্রজেক্টের ম্যানেজার জে.এম সাইফুল ইসলাম, ক্যারিয়ার হাবের খুলনা ব্রাঞ্চের ম্যানেজার আদিব আহসান শান্তু, ব্র্যাক স্কিলস ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামের ক্যারিয়ার কাউন্সিলর ফারহা রহমান এবং খুলনা হাবের অ্যাক্টিভেশন অ্যান্ড এনরোলমেন্ট ইউনিটের সাজ্জাদুল ইসলাম।
ব্র্যাকের ক্যারিয়ার হাব সম্পর্কে প্রজেক্ট ম্যানেজার জে.এম সাইফুল ইসলাম জানান, দেশে ৪৭.৫ মিলিয়ন তরুণের মধ্যে প্রায় ৯.৩৯ শতাংশ বেকার, যার মধ্যে উচ্চশিক্ষিত বা গ্র্যাজুয়েটদের বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি। প্রতি তিনজন গ্র্যাজুয়েটের মধ্যে একজন বেকারত্বের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এই সংকট নিরসনে ২০১২ সাল থেকে ব্র্যাক সুবিধাবঞ্চিতদের দক্ষ করে তোলার কাজ শুরু করলেও ২০২০ সাল থেকে তরুণদের সরাসরি কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘ক্যারিয়ার হাব’।
তিনি জানান, বর্তমানে ৭টি সেন্টারের আওতায় প্রায় ৭১ হাজারের বেশি তরুণকে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং প্রায় ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে কাউন্সেলিং করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৪০০ জনের বেশি তরুণকে সরাসরি বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
জে.এম সাইফুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক এই মডেলে তরুণদের জন্য ক্যারিয়ার অ্যাওয়ারনেস, চার ধরনের অ্যাসেসমেন্ট, নিয়মিত কাউন্সেলিং, সিভি রিভিউ, মক ইন্টারভিউ এবং সরাসরি কর্পোরেট এক্সপোজারের সুবিধা রয়েছে। সাধারণ জব ফেয়ারের বাইরে গিয়ে ‘ক্যারিয়ার এক্সপো’-তে অন-স্পট ইন্টারভিউ ও চাকরি নিশ্চিত করার সুযোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি উদ্যোক্তা হতে ইচ্ছুক কিংবা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সঠিক নির্দেশনা এবং ব্যাংক বা এজেন্সির সহযোগিতাও দেওয়া হয়।
এছাড়াও ক্যাম্পাসে সরাসরি অন-স্পট নিয়োগ, ফেলোশিপ, গবেষণা অনুদান এবং গ্লোবাল সিটিজেনশিপ উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল এবং আধুনিক কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করে তোলাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি বিশ্বমানের আধুনিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে আন্তর্জাতিক মানের ‘মাল্টি-সেন্সরস স্পেস’ স্থাপনসহ বিভিন্ন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমন্বিত একাডেমিক চুক্তি ও একাডেমিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার আন্তর্জাতিক সংযোগ জোরদারের এই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজস্ব অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
উপাচার্য আরো বলেন, শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক সনদ প্রদানের মধ্যে শিক্ষা সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে দক্ষ, পেশাদার এবং কর্মসংস্থান উপযোগী প্রকৃত মানবসম্পদে রূপান্তর করাই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার সুযোগ ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ঢাকা-কেন্দ্রিক জনসংখ্যার চাপ ও অভিবাসন কমাতে হবে। দেশে ক্রমবর্ধমান উচ্চশিক্ষিত বেকারত্ব নিয়ন্ত্রণে সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কার্যকর কৌশল গ্রহণ করতে হবে। কারণ, অদূর ভবিষ্যতে বেকারত্বের হার বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার যে ঝুঁকি রয়েছে, তা মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।