September 17, 2026, 3:13 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
মাত্র ১৩ বছর বয়সে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গিয়েছিল খুলনার এক কিশোরী। এক বছর পর সেই কিশোরী দেশে ফিরেছে এক বছর বয়সী সন্তানকে কোলে নিয়ে। মানবপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতে আটক থাকার পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বুধবার দেশে ফিরেছে সে।
তার সঙ্গে আরও ১৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ভারতের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। ফেরত আসা ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জনই শিশু ও কিশোর-কিশোরী। বাকি দুজন প্রাপ্তবয়স্ক।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে প্রাথমিক মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার জন্য তাদের বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার-এর জিম্মায় দেওয়া হয়।
প্রেমের সম্পর্ক, এরপর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে
ফেরত আসা কিশোরীর জীবনকাহিনি অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার সংস্থা ও পুলিশ।
খুলনার বাসিন্দা ওই কিশোরী ১৩ বছর বয়সে একটি প্রেমের সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে সামাজিক চাপ ও লোকলজ্জার ভয়ে দালালের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চলে যায়। সেখানে যাওয়ার কিছুদিন পর একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেয় সে।
এরপর অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ তাকে আটক করে। প্রায় এক বছর কারাভোগের পর স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থার সহায়তায় সন্তানসহ তাকে কলকাতার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ ও প্রক্রিয়া শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে সন্তানসহ দেশে ফেরার সুযোগ পায় ওই কিশোরী।
অনেকের মা-বাবাও কারাগারে
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, ফেরত আসা শিশুদের অনেকের পারিবারিক পরিস্থিতিও জটিল। কারও মা-বাবা বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছেন। আবার এমনও রয়েছেন, যাদের মা-বাবা আগে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরলেও সন্তানরা কলকাতার বিভিন্ন শেল্টার হোমে আটকা ছিল।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ফেরত আসা শিশুদের অনেকের মা-বাবা ভারতের বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছেন। আবার কারও মা-বাবা দেশে ফিরলেও সন্তানরা ভারতের আশ্রয়কেন্দ্রে ছিল। দুই দেশের সমন্বিত কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে শিশু-কিশোররা
দেশে ফেরার পর ১৮ জনকে বেনাপোলে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের নিজস্ব আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
সংস্থাটির ডেপুটি কান্ট্রি ম্যানেজার এ বি এম মুহিত হোসেন বলেন, ফেরত আসা নারী ও শিশুদের প্রাথমিক সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করার পর তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।
পাচারের ঝুঁকিতে শিশু-কিশোররা
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দারিদ্র্য, পারিবারিক ও সামাজিক সংকট, অপ্রাপ্তবয়স্কদের অনিরাপদ সম্পর্ক এবং সীমান্তপথে দালালচক্রের তৎপরতা শিশু-কিশোরদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। নিরাপদ অভিবাসন ও সীমান্ত পারাপার সম্পর্কে সচেতনতার অভাবেও অনেকে প্রতারণার শিকার হচ্ছে।
একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর সন্তানসহ বিদেশে আটকে পড়া এবং এক বছর পর দেশে ফেরার ঘটনা সেই ঝুঁকিরই একটি করুণ চিত্র তুলে ধরেছে। দেশে ফেরার পর এসব শিশু-কিশোরের নিরাপত্তা, মানসিক ও সামাজিক পুনর্বাসন এবং পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়াই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রধান দায়িত্ব।