May 11, 2026, 6:12 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
হামে শিশুমৃত্যু: ৩৫২ পরিবারের জন্য দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট মাদক কারবারীকে ছাড়াতে থানায় চাপ প্রয়োগের চেষ্টা, বিএনপি-জামাতের পাঁচ নেতা আটক, আদালত প্রক্রিয়া নিয়ে গুঞ্জন বিশ্ব মা দিবস/ মায়ের মুখেই পৃথিবীর প্রথম আলো রাজবাড়ীর পেঁয়াজ বাজারে ধলতা বিরোধী অভিযান, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা বাঙালীকে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখতে অব্যাহত রাখতে হবে রবীন্দ্র চর্চা পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রবীন্দ্রনাথহীন বাঙালি: শেকড়হীন সংস্কৃতির এক নিঃসঙ্গ জাতিসত্তা ভারত থেকে এলো তিন ট্রাক বিস্ফোরক দ্রব্য শিলাইদহে কবিগুরুর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী ঘিরে উৎসবের প্রস্তুতি সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য জমি বরাদ্দের ঘোষণা: এনডিটিভি রিপোর্ট

কুষ্টিয়ায় আধ্যাত্মিক গুরু হত্যা/জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি প্রধান আসামি; ইসলামী সংগঠনের একাধিক নেতার নাম

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আধ্যাত্মিক গুরু আবদুর রহমান শামীমকে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়ের হয়েছে। এই মামলায় শিবির ও ইসলামী ধারার একাধিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এসেছে, যা ঘটনাটিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের রোকন খাজা আহম্মেদকে। তার সঙ্গে আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় জামায়াত কর্মী রাজিব মিস্ত্রি, খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৫) এবং একটি মাদ্রাসার শিক্ষক সাফি।
নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে গতকাল রাতে দৌলতপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় এই চারজনের পাশাপাশি আরও ১৮০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রথম দফায় ৭০ থেকে ৮০ জন হামলাকারী দরবার শরীফে আক্রমণ চালায়। তাদের মধ্যে ৭ থেকে ৮ জন সরাসরি ভাঙচুর ও হামলায় অংশ নেয়। পরে দ্বিতীয় দফায় স্থানীয় একটি মাদ্রাসার কয়েকশ শিক্ষার্থীও হামলায় যুক্ত হয়, যা ঘটনাটির ব্যাপ্তি ও সংগঠিত চরিত্রকে স্পষ্ট করে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও পোস্ট থেকে হামলার উসকানির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইতোমধ্যে কয়েকটি ফেসবুক আইডি ও পেজের অ্যাডমিন শনাক্ত করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও ভাইরাল ভিডিও বিশ্লেষণ করে আরও কয়েকজন হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
তবে মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, নিহত শামীম তার আত্মীয় এবং তিনি ঘটনার দিন লাশ আনতে গিয়েছিলেন মাত্র। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও উপস্থিত থাকলেও তাদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
অন্যদিকে, জামায়াতের স্থানীয় নেতৃত্বও দলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নাকচ করেছে। উপজেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন বলেন, “মামলায় অনেকের নাম আসতে পারে, কিন্তু আমাদের দলের কেউ এ ঘটনায় জড়িত নয়। আমরা আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করব।”
উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে অবস্থিত দরবার শরীফে হামলা চালিয়ে পীর আবদুর রহমান শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় দরবারে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে ধর্মীয় ও সাংগঠনিক উগ্রতার প্রশ্ন আবারও সামনে চলে এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net