July 7, 2026, 11:18 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
ইউরোপীয় ইউনিয়নের Erasmus+ প্রকল্পের আওতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হবে দেশের প্রথম মাল্টিসেন্সরি লার্নিং স্পেস প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন প্রকল্প, ৬৪ জেলায় তথ্য যাচাইয়ের নির্দেশ বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায় কি অনিবার্য ছিল? স্কুল ফিডিং/ পুষ্টির প্লেটে অনিয়মের বিষ, মহৎ উদ্যোগকে ব্যর্থ করছে কারা? জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে বই পড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন, পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান তিন দশকে ১১–১২ লাখ গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ, পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী সামাজিক উদ্যোগ ইবিতে ভূগর্ভস্থ অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন কাজের উদ্বোধন বাউল নির্যাতন ও হাইকোর্টের বার্তা/ রাষ্ট্র কি এবার তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে? রূপপুরে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু ট্যারিফ অনির্ধারিত, গ্রিড প্রস্তুতি কতদুর সুশাসন চর্চা থেকে অবিচল আস্থা/ব্র্যাক ব্যাংক যেভাবে দেশের সবচেয়ে নিরাপদ ব্যাংক হলো

গঙ্গা পানি চুক্তির ভবিষ্যৎ/ যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শেষে ‘নীরবতা’

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কলকাতার নিউ টাউনের ফেয়ারফিল্ড ম্যারিয়ট হোটেলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) ৯০তম বৈঠক শেষ হলেও গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব না দিয়েই স্থান ত্যাগ করেন, যা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তাকে আরও ঘনীভূত করেছে।
১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে এবারের বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছিল, চুক্তি নবায়ন বা নতুন কাঠামো নিয়ে অন্তত একটি রূপরেখা সামনে আসতে পারে। তবে বাস্তবে কোনো পক্ষই বৈঠকের সিদ্ধান্ত বা অগ্রগতি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি।
সূত্র অনুযায়ী, বৈঠকে চুক্তি নবায়ন ও নতুন ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ভারত পক্ষ বলছে, ফরাক্কা পয়েন্টে বাস্তব পানিপ্রবাহের ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ বণ্টন কাঠামো নির্ধারণ করা উচিত। অন্যদিকে বাংলাদেশের অবস্থান, শুধু ফরাক্কা নয়, পুরো উজান অঞ্চলের গঙ্গার মোট প্রবাহকে বিবেচনায় নিতে হবে, যাতে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে প্রয়োজনীয় পানিপ্রবাহ নিশ্চিত থাকে।
বৈঠকের আগে বৃহস্পতিবার দুই দেশের প্রতিনিধি দল ফরাক্কা ব্যারাজ ও আশপাশের নদী অঞ্চলে যৌথ পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করে। গঙ্গার মূল স্রোত, ফিডার ক্যানাল, ভাগীরথী ও পদ্মার পানিপ্রবাহ সরেজমিনে পর্যালোচনা করা হলেও পর্যবেক্ষণের ফলাফল নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ভারতীয় প্রতিনিধিরা এটিকে ‘রুটিন অবজারভেশন’ বলে উল্লেখ করেন।
শুক্রবারের বৈঠকে বাংলাদেশের ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জয়েন্ট রিভার কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কাদীর। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন, মো. আবু সৈয়দ, মো. শামসুজ্জামান, মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ ও মো. রুমানুজ্জামান। কূটনৈতিক পর্যায়ের কর্মকর্তারাও আলোচনায় অংশ নেন।
অন্যদিকে ভারতের প্রতিনিধি দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, ফরাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার নিচে নামলে দুই দেশ সমানভাবে পানি ভাগ করে নেয়। আর প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত ৪০ হাজার কিউসেক পানি পায়, বাকি অংশ যায় বাংলাদেশের প্রাপ্য হিসেবে।
তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, পরিস্থিতি এখন কেবল পানি বণ্টনের প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি সংবেদনশীল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। নদীর প্রবাহ, পশ্চিমবঙ্গের নদীভাঙন, পদ্মার পানিপ্রবাহ এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিনির্ভর অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব—সব মিলিয়ে আলোচনার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে।
তবুও এবারের বৈঠক শেষে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না আসায় অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। গঙ্গা পানি চুক্তির ভবিষ্যৎ কী হবে—তা নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে এখনো অপেক্ষা ও নীরবতাই প্রধান হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net