March 1, 2026, 1:17 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় এক লাখ টাকা দামের ল্যাপটপ চাওয়ার অভিযোগ ঘিরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এক ব্যবসায়ীর মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ, দাবি পূরণ না করায় ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবারকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। জীবননাশের আশঙ্কায় ভুক্তভোগী ইতোমধ্যে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগের তীর খোকসা থানার ওসি মোতালেব হোসেনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মাহাফুজুর রহমান বর্ষণ উপজেলা সদরের বাজারে ‘বর্ষণ ইলেকট্রিক’-এর মালিক। তাঁর বাবা গোলাম ছরোয়ার একই বাজারে হার্ডওয়্যার ব্যবসা করেন।
অভিযোগের সূত্রপাত/
ব্যবসায়ী বর্ষণের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরের শেষদিকে শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দিনের কাছে একটি অচেনা নম্বর থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ফোনদাতার পরিচয় নিশ্চিত করতে বর্ষণের মাধ্যমে ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর থেকেই ঘটনাপ্রবাহ ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।
বর্ষণের দাবি, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ওসি তাঁকে নাসির উদ্দিনের কাছ থেকে এক লাখ টাকা দামের একটি ল্যাপটপ এনে দেওয়ার দায়িত্ব দেন। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে তিনি ঢাকা থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা দামের একটি ল্যাপটপ এনে থানায় দেন। তবে সেটি পছন্দ না হওয়ায় ওসি তা ফেরত দেন। এরপর থেকে যোগাযোগ বন্ধ করলে শুরু হয় হুমকি-ধমকি।
বর্ষণের অভিযোগ, ওসির পক্ষে রাজন নামের এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী তাঁকে নিয়মিত হুমকি দিতে থাকেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ওসি নিজে তাঁর দোকানে গিয়ে ল্যাপটপ অথবা সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার কথা বলেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি ওই রাজন তাঁর বাড়িতে গিয়ে একই দাবিতে হুমকি দেন। সর্বশেষ গত শুক্রবার এক সন্ত্রাসী সদস্য ফোনে তাঁকে গুলি করার হুমকি দিয়েছেন বলেও দাবি করেন বর্ষণ।
২২ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওসির বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন বর্ষণ। সেখানে তিনি লেখেন, ল্যাপটপ বা টাকা না দিলে তাঁকে বিপদে ফেলা হবে এবং এলাকায় সন্ত্রাসীদের ‘ওপেন’ করে দেওয়া হয়েছে। তবে পরবর্তীতে হুমকির মুখে তিনি সেই স্ট্যাটাস সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হন। ২৪ ফেব্রুয়ারি আবারও তাঁর ও তাঁর বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ওসির বক্তব্য/
ওসি মোতালেব হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবির একটি ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে নাসির মেম্বারের নাম উঠে আসে। সেই তদন্তের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু হয়েছে। বর্ষণের দোকানে তিনি দু-একবার মালপত্র কিনতে গেছেন বলেও জানান।
ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নাসির উদ্দিন বলেন, তাঁর কাছে অচেনা ব্যক্তি ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে তিনি বর্ষণের মাধ্যমে ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে উল্টো তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলা হয়। তিনি দাবি করেন, ওসি ল্যাপটপ চেয়েছিলেন এবং সে অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা দামের একটি ল্যাপটপ থানায় পাঠানো হয়। সেটি ফেরত দেওয়ার পর থেকেই জটিলতা তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ীর বাবা গোলাম ছরোয়ার বলেন, দাবিকৃত ল্যাপটপ না দেওয়ায় তাঁর ছেলের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে। হুমকির কারণে বর্ষণ নিয়মিত দোকানেও যেতে পারছেন না। পরিবারটি চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার/
গত শুক্রবার রাতে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে বর্ষণ কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। তবে পুলিশ সুপার বলেন, অভিযোগটি এখনও তাঁর নজরে আসেনি; অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ-প্রত্যাখ্যানের এই টানাপোড়েনে একদিকে যেমন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে, অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে একটি ব্যবসায়ী পরিবার।