March 9, 2026, 12:24 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
পদ্মা নদীর পানি কমে যাওয়ায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যানবাহন পারাপারে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। ঘাটের সংযোগ সড়ক উঁচু হয়ে পড়া এবং পন্টুন নিচু হয়ে যাওয়ায় ফেরিতে যানবাহন ওঠানামার সময় ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে সময়ক্ষেপণ ও দুর্ভোগ বাড়ছে।
সামনে ঈদকে ঘিরে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বাড়ার আশঙ্কা থাকায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যাত্রী ও চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইতোমধ্যে ঘাটের বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন ও ঘাট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।
দেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌ-রুট দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার যানবাহন পারাপার হয়। ঈদ এলেই সেই সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু পদ্মার পানি কমে যাওয়ায় দৌলতদিয়া ঘাটে বর্তমানে পারাপার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে ঘাট এলাকায় দেখা যায়, পানি কমে যাওয়ায় সচল থাকা ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাটের সংযোগ সড়ক উঁচু হয়ে গেছে, আর পন্টুনগুলো নিচে নেমে গেছে। ফলে যানবাহন ওঠানামার সময় প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এবং ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে। সংযোগ সড়কের উচ্চতার কারণে ফেরিতে গাড়ি ওঠানো ও নামাতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন চালকরা।
এ ছাড়া ঘাট এলাকায় সারাক্ষণ ধুলাবালির দাপট দেখা যাচ্ছে। এতে ঘাট এলাকার পরিবেশ অস্বাস্থ্কর হয়ে ুউঠছে।
চালক ও যাত্রীরা বলছেন, দ্রুত সংযোগ সড়ক সংস্কার ও ঘাট ব্যবস্থাপনা উন্নত করা না হলে ঈদযাত্রার সময় দৌলতদিয়া ঘাটে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এসবি পরিবহনের চালক হারুন উর রশিদ আসকারী ঘাট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কথা বলেছেন। তিনি বলেন এই অবস্থায় দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “এখনই সংযোগ সড়ক মেরামত না করলে ঈদের সময় যাত্রী পারাপার খুবই কষ্টকর হয়ে পড়বে।”
একই অভিযোগ করেন রাজবাড়ীর ট্রাকচালক আলমগীর হোসেন ভুইয়ার। তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থায় ফেরিতে ওঠানামা করতে গিয়ে অনেক সময় গাড়ির নিচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে ঈদযাত্রায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং পারাপার সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন রাখতে গত রোববার রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ হারুন, জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ, বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন জানান, আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এ নৌ-রুটে ১৬টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ চলাচল করবে। বর্তমানে সচল থাকা দৌলতদিয়ার তিনটি ঘাট দিয়েই পারাপার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
তার দাবি, টুকিটাকি সংস্কার কাজ হলেই পারাপার নির্বিঘ্ন হয়ে যাবে।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ বলেন, “ঘাট এলাকায় চাঁদাবাজি ও দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে বিশেষ টহল টিম মোতায়েন করা হবে। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হবে।”