March 16, 2026, 5:53 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার—এমন ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের আয় কয়েক বছরের মধ্যে দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
সোমবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় ‘শাহাপাড়া খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ শাহাপাড়া খালটির খনন কাজ শেষ হলে এলাকার প্রায় ৩৩ হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন। এর ফলে প্রায় ১২০০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে এবং সাড়ে তিন লাখ মানুষ নানাভাবে উপকৃত হবেন। এতে এলাকায় বছরে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি এর দুই পাড়ে সাত হাজার গাছ রোপণ এবং মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
নির্বাচনি অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি চার কোটি পরিবারের মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং পাইলট প্রকল্প হিসেবে ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার মায়ের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আগামী মাসে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কথাও জানান তিনি।
উত্তরাঞ্চলের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় কৃষিপ্রধান অঞ্চল হওয়ায় এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ইপিজেডগুলোতে শিল্পকারখানা স্থাপনের বিষয়ে ঈদের পর বড় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা হবে।
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। যে মানুষ আজ মাসে পাঁচ হাজার টাকা আয় করে, আগামী দুই থেকে চার বছরের মধ্যে তার আয় যেন ১০ হাজার টাকায় পৌঁছায়—আমরা সেই নীতিতেই কাজ করছি। কৃষক ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে।”
দেশের উন্নয়ন ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনগণের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। একাত্তরে এই দেশের মানুষ যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, আর ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচার বিদায় করেছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশও গড়ে তুলবে এই জনগণই। তবে বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তার মাধ্যমে যারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষে তিনি স্লোগান দেন—“করবো কাজ, গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।” এবং দেশ গঠনের কাজে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।