March 22, 2026, 2:55 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯৭১ সালের ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নটি আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে, যা নতুন করে এ ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসেছে।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান গত শুক্রবার এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো দমন-পীড়নকে জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ২৫ মার্চ ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরুর পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। সব ধর্মের বাঙালিরা এর শিকার হলেও বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞ পরিচালিত হয়।
প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীকে বিচারের আওতায় আনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। পাশাপাশি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান বলেন, “১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান নিঃসন্দেহে গণহত্যার সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এই স্বীকৃতি অনেক আগেই দেওয়া প্রয়োজন ছিল।”
এর আগে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং একাত্তরের গণহত্যার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ‘হিন্দু অ্যাকশন’ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে ওই শুনানির আয়োজন করা হয়।
নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার দিলিপ নাথ জানান, ওই আলোচনার ধারাবাহিকতায়ই কংগ্রেসে এ প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং প্রস্তাবটি পাস হলে ১৯৭১ সালের অপরাধের দায়ে যুক্তরাষ্ট্র সংগঠনটির বিরুদ্ধে পুনরায় কঠোর অবস্থান নিতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রস্তাবটি গৃহীত হলে আন্তর্জাতিক পরিসরে একাত্তরের গণহত্যা নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনা জোরদার হতে পারে।