May 13, 2026, 6:22 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে আইন সংশোধনের ফলে এবার থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে।
এ পরিবর্তনের পর নির্বাচন পরিচালনা ও আচরণ বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। এর অংশ হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটারদের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিধানও বাদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
ইতিমধ্যে আইন সংশোধনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের মেয়র ও চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন আয়োজনের বিধান বাতিল করা হয়েছে। ফলে নতুন বাস্তবতায় নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকে। তবে স্থানীয় নির্বাচন কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এরই মধ্যে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে দলটির নেতৃত্ব জানিয়েছেন, শিগগিরই স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন আয়োজন করা হতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনও প্রয়োজনীয় বিধি সংস্কারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার আইন ও বিধি সংস্কার সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে নির্বাচন পরিচালনা ও আচরণ বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে জামানত বাড়ানোর বিষয়টিও উঠতে পারে। কমিটির সুপারিশ পরে কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হবে, যেখানে অনুমোদনের পর তা চূড়ান্ত হবে।
এর আগে পূর্ববর্তী কমিশনও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামানত উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছিল। উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জামানত ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছিল।
বর্তমান কমিশন মনে করছে, দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক না থাকলে প্রার্থীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জামানত বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় আনা হচ্ছে।
তবে কমিশনের কেউ কেউ মনে করছেন, অতিরিক্ত জামানত সাধারণ প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ হার নির্ধারণের চেষ্টা চলছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় প্রার্থিতা নিয়ন্ত্রণে থাকে, আবার গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণও ব্যাহত না হয়।
বর্তমানে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জামানত ৫ হাজার টাকা, সদস্য পদে ১ হাজার টাকা। পৌরসভায় মেয়র পদে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা, কাউন্সিলর পদে ৫ হাজার টাকা। সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা এবং কাউন্সিলর পদে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা জামানত রয়েছে।
এছাড়া পোস্টার নিষিদ্ধকরণ, অনলাইনে মনোনয়ন দাখিল এবং ইভিএম সংক্রান্ত বিধান বাদ দেওয়ার মতো আরও কিছু সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে ইসি সূত্র জানিয়েছে।