August 8, 2026, 7:20 pm

সাইদ হাসান,গাংনী/
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় রাস্তা মেরামতের জন্য মাটি কাটার সময় মাটির নিচ থেকে ১০টি ল্যান্ডমাইনসদৃশ বস্তু ও পাঁচটি প্লাস্টিকের টুলবক্স উদ্ধার করা হয়েছে। মাইনসদৃশ এসব বস্তু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিস্ফোরক হতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার সকালে উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা যাদু শাহ জানান, বাড়ি নির্মাণের জন্য ইট আনার সুবিধার্থে রাস্তার পাশে থাকা উঁচু জমি থেকে—মনিরুলের বাড়ির পেছন দিকের অংশ—মাটি কেটে রাস্তায় ফেলা হয়েছিল। পরে বৃষ্টির পানিতে ওই মাটির কিছু অংশ ধুয়ে গেলে শনিবার সকালে সেখানে ইট রাখতে গিয়ে মাটির নিচে প্লাস্টিকের টুলবক্স ও মাইনসদৃশ বস্তু দেখতে পান তিনি।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যেই স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত গাংনী থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয় ব্যক্তি ও গাংনী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর হোসেন টকি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলার তেকালা গ্রামের ‘ব্যাংগাড়ির মাঠ’ এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র ছিল। তাঁর ধারণা, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে মুক্তিযোদ্ধারা হয়তো এসব অ্যান্টি-পার্সোনেল ল্যান্ডমাইন মাটির নিচে পুঁতে রেখেছিলেন। তবে বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই এগুলোর প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি নিরাপত্তার আওতায় নেয়। গাংনী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস বলেন, “ল্যান্ডমাইনসদৃশ বস্তু পাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বোমা ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। তাদের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরই এসব বস্তুর প্রকৃত পরিচয় ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
এদিকে, সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়েছে। বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করা পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।