March 18, 2026, 2:06 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
দায়িত্ব বুঝে নিয়ে কাজ শুরু করলেন কুষ্টিয়ার নতুন জেলা প্রশাসক ভর্তি পরীক্ষা ফিরছে/ অভিভাবকদের অতি উৎসাহ, শিক্ষকদের কোচিং নির্ভরতা—শিশুশিক্ষা আবারও বাণিজ্যের দোরগোড়ায়? ১৫ মাসে আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে: ইউনুস সরকার অনুপ্রবেশ ঠেকাতেও ব্যর্থ, প্রত্যাবাসনেও আজ স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন এনসিপি নেতারা গণভোট নিয়ে ‘অর্ধেক বুঝেছেন’: আইনমন্ত্রী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, আয় দ্বিগুণের লক্ষ্য: জানালেন প্রধানমন্ত্রী অস্কার ২০২৬: সেরা ছবি ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’, বিজয়ীদের তালিকা অস্থিরতা প্রশমনের প্রত্যাশা/কুষ্টিয়ার নতুন জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান পুরোনো সিলেবাসে বৃত্তি পরীক্ষা/দ্বৈত পড়ার চাপে পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী পূর্ণাঙ্গ রায়/সর্বশেষঅবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই হবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান

ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ/যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে দিতে হতে পারে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার জামানত

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন আর্থিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের হালনাগাদ ‘ভিসা বন্ড’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই বিধান কার্যকর হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত দেশগুলোর তালিকা হালনাগাদ করে, যেখানে নতুন করে বাংলাদেশের নাম যুক্ত করা হয়। বর্তমানে এই তালিকায় বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশ রয়েছে। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা—বিশেষ করে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা (বি-১/বি-২)—আবেদনের ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড আরোপ করা হতে পারে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী ভিসার সকল শর্ত পূরণ করলেও সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার অফিসার প্রয়োজনে তার ওপর ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, ব্যক্তিগত প্রোফাইল এবং সাক্ষাৎকারের মূল্যায়নের ভিত্তিতে জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। এই জামানত তিনটি স্তরে নির্ধারিত—৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার।
জামানতের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম ‘চধু.মড়া’-এর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসার লিখিতভাবে নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের অর্থ জমা না দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের সতর্ক করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা বন্ড একটি পরীক্ষামূলক বা পাইলট কর্মসূচির অংশ। এর মূল লক্ষ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বা ‘ওভারস্টে’ করার প্রবণতা কমানো। যেসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরে না আসার হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। গত বছরের আগস্টে সীমিত পরিসরে এই কর্মসূচি চালু করা হয়।
তবে ভিসা বন্ড স্থায়ীভাবে কেটে নেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই অর্থ ফেরতযোগ্য। কেউ যদি অনুমোদিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, ভিসা পেলেও যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করেন, কিংবা মার্কিন বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পান—সে ক্ষেত্রে জমা দেওয়া জামানত ফেরত পাওয়া যাবে। তবে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করা বা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভিসার ধরন পরিবর্তনের আবেদন, যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় বা আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন করলে জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
এছাড়া ভিসা বন্ডের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের নির্দিষ্ট তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে। বিমানবন্দরগুলো হলো—বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওয়াশিংটন ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এসব নির্ধারিত বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ করলে বন্ডের শর্ত লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল, উগান্ডাসহ আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ। বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে এই নীতির কার্যকারিতা ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে। পর্যটন, ব্যবসা কিংবা পারিবারিক সফরের পরিকল্পনায় অতিরিক্ত আর্থিক প্রস্তুতি প্রয়োজন হবে।
উল্লেখ্য, ভিসা বন্ড মূলত একটি আর্থিক নিশ্চয়তা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ভ্রমণকারী ভিসার শর্ত—বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ—মানবেন বলে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক পরিসরে এই ধরনের ফেরতযোগ্য জামানত ব্যবস্থা খুব বেশি প্রচলিত নয়। অতীতে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য সীমিত পরিসরে এমন উদ্যোগ নিলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net