February 11, 2026, 2:25 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
প্রচার শেষ, ভোটের অপেক্ষায় দেশ/কঠোর বিধিনিষেধে থেমেছে নির্বাচনী প্রচারণা ব্যালটে সমতা, ক্ষমতায় বৈষম্য: নারী ভোটারদের শক্তি ও রাজনৈতিক বাস্তবতার দ্বন্দ্ব কূটনীতি, ক্রিকেট ও দ্বৈত মানদণ্ড: আইসিসি সিদ্ধান্তে প্রশ্নে বাংলাদেশ–পাকিস্তান খুলনার বেশ কয়েকটি আসনে বিদ্রোহীরা বিএনপিকে চাপে রাখছে, জামায়াত তুলনামূলক স্বস্তিতে কুষ্টিয়া কারাগারে হাজতির অস্বাভাবিক মৃত্যু, পুলিশ বলছে আত্মহত্যা বিএনপি-জামাতের ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা গড়াই নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্রের বার্ষিক বনভোজন ও সাহিত্য আড্ডা রয়টার্সকে তারেক রহমান/ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠন করবে না বিএনপি ২০২৬ সালের একুশে পদক পেলেন নয় ব্যক্তি ও এক ব্যান্ড হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন/ গুম কমেছে, কিন্তু গণগ্রেপ্তার ও জামিন বঞ্চনা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

কলকাতা বইমেলায় এবারও নেই বাংলাদেশ

বাংলাদেশের চলমান পরিস্ভাথিতিতে রত সরকারের গ্রিণ সিগন্যাল নেই/
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো অংশগ্রহণ করতে পারছে না বাংলাদেশের প্রকাশকরা। আয়োজকদের সিদ্ধান্তে এবছরও বইমেলায় বাংলাদেশের কোনো প্যাভেলিয়ন থাকছে না—যা দুই বাংলার সাহিত্য ও প্রকাশনা অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কলকাতা বইমেলার আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চ্যাটার্জি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এবার মেলায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও আয়োজকরাই সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। তাঁর ভাষায়, “বাংলাদেশের তরফে যোগ দেওয়ার আগ্রহ ছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা তাদের অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে পারছি না।”
তিনি বলেন, বর্তমান ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত ছাড়া বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়। “সে অনুমতি এখনো পাওয়া যায়নি। তাই এবছরও বাংলাদেশ কলকাতা বইমেলায় থাকছে না,”—বলেন ত্রিদিব চ্যাটার্জি। তবে কোনো ভারতীয় স্টলে যদি বাংলাদেশের বই বিক্রি হয়, সে বিষয়ে গিল্ডের আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি।
এর আগে দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশের প্রকাশকদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। বাংলাদেশি লেখকদের নতুন বই, পাঠকের ভিড় এবং সাংস্কৃতিক আদান–প্রদান—সব মিলিয়ে বইমেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ছিল বাংলাদেশের অংশগ্রহণ। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর গত বছর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ মেলায় অনুপস্থিত ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবছরও থাকছে না কোনো আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ।
কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের উপদূতাবাসের সূত্রগুলোও নিশ্চিত করেছে যে এবছরের বইমেলায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ জানানো হয়েছিল। তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় সে উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।
এদিকে এবারের বইমেলায় যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। বাজেট বরাদ্দ না থাকায় মার্কিন অংশগ্রহণ বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে, এই প্রথমবারের মতো ইউক্রেন অংশ নিচ্ছে কলকাতা বইমেলায়। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ফিরছে চীনের প্যাভেলিয়ন। এবছরের থিম দেশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে আর্জেন্টিনা।
আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে সল্টলেকের স্থায়ী ‘বইমেলা প্রাঙ্গণ’-এ শুরু হচ্ছে ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেলার উদ্বোধন করবেন। আয়োজকদের তথ্যমতে, এবছর মোট ২১টি দেশ এবং ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের এক হাজারেরও বেশি প্রকাশক বইমেলায় অংশ নেবেন।
বিশ্বের বৃহত্তম অ-বাণিজ্যিক বইমেলা হিসেবে পরিচিত কলকাতা বইমেলা—যেখানে প্রকাশকদের পাশাপাশি সাধারণ পাঠকের অংশগ্রহণই মূল আকর্ষণ—সেখানে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুই বাংলার সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে এক ধরনের শূন্যতার অনুভূতি তৈরি করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net