March 11, 2026, 4:53 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
প্রথম দিনেই ৩৭ হাজার নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড, আগামী মাস থেকে কৃষক কার্ড সব পরিবারই পাবে ফ্যামিলি কার্ড, আমার স্ত্রীও পাবেন: মির্জা ফখরুল ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিত/কে কত পেতে যাচ্ছেন মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা দৌলতদিয়া ঘাটে পানি কমে পারাপারে জটিলতা, ঈদে নামছে ১৬ ফেরি ও ২০ লঞ্চ ‘অদম্য নারী’ সম্মাননা পেলেন খালেদা জিয়া, গ্রহণ করলেন ব্যারিস্টার জাইমা কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীতে নিখোঁজের ২৫ ঘণ্টা পর দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার এলপিজি/ সবসময়ই চড়া মূল্য দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ: ভ্যাট কমানো ও দাম সমন্বয়ের পরও স্বস্তি নেই ইবি শিক্ষক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ/একটি জাতি যেভাবে ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি পায় আইসিইউতে থাকা ফজলুকে গ্রেফতার দেখাল পুলিশ, অন্য আসামিদের বিষয়ে তদন্ত চলছে

সংসদ নির্বাচন: কুষ্টিয়ায় প্রচার শুরু ঢিমে তালে, ভোটারদের জন্য প্রার্থী চিনতে অসুবিধা

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হয়েছে। এটি প্রথমবারের মতো কোন পোস্টার ছাড়াই শুরু হওয়া জাতীয় নির্বাচন। প্রচারণা বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ১২টার পর থেকে শুরু হয়ে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলবে।
ভোটারদের অভিমত, পোস্টার, বিলবোর্ড ও প্রচারণামূলক মাইকিং না থাকায় ভোটের পরিবেশ অনেকটাই ফ্যাকাসে মনে হচ্ছে। তারা জানাচ্ছেন, প্রচারণার এই নতুন ধারা প্রার্থীদের চিনতে অসুবিধা সৃষ্টি করছে।
কুষ্টিয়ার চারটি আসনে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রচারণার কোনো জোরালো দৃশ্য চোখে পড়েনি। রিকশা চালক হারুনুর রশীদ আসকারী হারু বলেন, “পোস্টার ছাড়া জাতীয় নির্বাচন কেমন যেন ফ্যাকাসে লাগছে। কে দাঁড়াইছে তা বোঝা যাচ্ছে না। ভোটের কোনো আমেজ পাচ্ছি না।”
কুষ্টিয়া বড় বাজারের আড়ত শ্রমিক আলমগীর হোসেন ভুইয়া জানান, “ভোটে কে দাঁড়াইছে বুঝতে পারছি না, কাহাক ভোট দেব তা ঠিক করা কঠিন।” মোহাম্মদপুর চাঁনমিয়া হাউজিং এলাকার ৭৫ বছর বয়সী নিজাম উদ্দিন বলেন, “প্রার্থীকে চিনতে পারি না। অনলাইনে প্রচারণা সব জায়গায় পৌঁছায় না, সব কারোর হাতে স্মার্টফোন নেই। তাই এলাকায় কে ভোটে দাঁড়িয়েছে বোঝা যাচ্ছে না।”
নতুন নির্বাচনী বিধিমালায় প্রচারণার জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি এবং পরিবেশগত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ড্রোন বা কোয়াডকপ্টারের ব্যবহার নিষিদ্ধ। দলের সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের নেতারা হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবেন, তবে আকাশ থেকে লিফলেট বা অন্য কোনো প্রচারসামগ্রী বিতরণ করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রের ১৮০ মিটার দূরত্বের মধ্যে ভোটার স্লিপ বিতরণও নিষিদ্ধ।
মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রাখা হয়েছে। দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করা যাবে এবং শব্দসীমা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল রাখতে হবে। ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদ বা প্রতীক উল্লেখ করা যাবে না।
ঝালমুড়ি বিক্রেতা রুহুল কুদ্দুস সালেহ ওরফে বাদশা বলেন, “পোস্টার না হলে ভোটে কাকে ভোট দেব, বোঝা যায় না। পোস্টার থাকলে প্রার্থীর মার্কা ও চেহারা দেখে বোঝা যায়।” মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ হাউজিংয়ের মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন যোগ করেন, “ভোটের আমেজ বোঝা যাচ্ছে না। পোস্টার ছাড়া নির্বাচন আরও খারাপ মনে হচ্ছে। প্রচারণা শুরু হয়েছে কি না, কিছুই বোঝা যাচ্ছে না।”
কুষ্টিয়ায় চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২৫ জন মনোনিত হয়ে ইলেকশনে নেমেছেন। যাদের অনেকেই একেবারেই নতুন। বোটাররা বলছেন, তারা অনেককে চেনেনই না।
কুষ্টিয়া-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী জানান, তিনি ইতোমধ্যে প্রচারণার কাজ শুরু করেছেন। তার বাবা সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মাছ-উদ রুমী এবং মাতার কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তিনি বৃহস্পতিবার থেকে প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করেছেন।
সম্মিলিত সামাজিক জোটের চেয়ারম্যান ড. আমানুর আমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বলেন, “এই নির্বাচন শুধু আসন পাওয়ার লড়াই নয়, এটি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের অংশ। এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও দৃঢ় করার সুযোগ এনে দিয়েছে। ভোটাররা যাতে শান্তিপূর্ণ ও সচেতনভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন, সেটি আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। প্রতিটি নাগরিকের ভোট দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এইবারের নির্বাচনে প্রচারণা পদ্ধতি বদলেছে—পোস্টার, বিলবোর্ড ও প্রচারণামূলক মাইকিংয়ে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশগত বিধিনিষেধের কারণে প্রচারণা কিছুটা ফ্যাকাসে মনে হতে পারে। তবে আমরা চাই, ভোটাররা ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং সচেতন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রার্থী ও দলের কার্যক্রম বিবেচনা করে ভোটদান করুন। এটি শুধুমাত্র এক দিনের নির্বাচন নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরও দায়িত্বশীল এবং স্বচ্ছ করার সুযোগ।”
ড. আমানুর আমান বলেন, “প্রত্যেক প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা মেনে কাজ করতে হবে। ভোটারদের কাছে প্রার্থী ও দলের বার্তা পৌঁছানো গেলে ভোটের ফলাফল আরও বিশ্বাসযোগ্য হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হলে তা দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এবার ভোটাররা শুধু কাগজে নয়, বাস্তব জীবনে এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে সচেতনভাবে তথ্য সংগ্রহ করছেন। আমাদের আশা, সকল ভোটার এই দায়িত্বশীল অবস্থান বজায় রাখবেন এবং ভোটের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবেন।”
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পোস্টারবিহীন প্রচারণা ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা বৃদ্ধি করেছে। তবে দেশজুড়ে স্মার্টফোন ও অনলাইন সংযোগ সীমিত হওয়ায় গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের ভোটাররা এখনও প্রচারের কার্যকর তথ্য থেকে দূরে রয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net