March 9, 2026, 11:57 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
দেড় বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবার চালু হয়েছে ঢাকা–আগরতলা–কলকাতা আন্তর্জাতিক বাস সার্ভিস। ২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা কমলাপুর বাস ডিপো থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ‘রয়েল মৈত্রী’ পরিবহনের একটি বাস যাত্রা শুরু করে। বাসটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট হয়ে ভারতে প্রবেশ করে।
এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষামূলকভাবে বাসটি ভারতে গিয়েছিল এবং ২১ ফেব্রুয়ারি পুনরায় দেশে ফিরে আসে।
ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, চালক ও স্টাফসহ মোট ৯ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি দুপুর ১১টার দিকে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয় এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগরতলার উদ্দেশে রওনা হয়।
ঢাকা থেকে ভারতের ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা হয়ে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা পর্যন্ত সরাসরি বাস যোগাযোগ একসময় দুই দেশের মানুষের জন্য ছিল সহজ, সাশ্রয়ী ও জনপ্রিয় যাতায়াতের মাধ্যম। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা পরিস্থিতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়। একই সময় ভিসা ইস্যুতে জটিলতা, সীমান্তপথে নিরাপত্তা কড়াকড়ি এবং যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়াও পরিষেবা স্থগিতের পেছনে ভূমিকা রাখে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—দ্বিপক্ষীয় সমন্বয়ের ঘাটতি, নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং রুট ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা চলছিল দীর্ঘদিন। ফলে পরিষেবাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
ধীরে ধীরে নিয়মিত চলাচলের পরিকল্পনা/
বর্তমানে সপ্তাহে দুই দিন পরীক্ষামূলকভাবে বাস চলবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সপ্তাহে তিন দিন নিয়মিত পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যাত্রী চাহিদা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ভিসা প্রক্রিয়ার সহজীকরণ—এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় রেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য/
ঢাকা–আগরতলা–কলকাতা বাস সার্ভিস শুধু একটি পরিবহনব্যবস্থা নয়; এটি দুই দেশের জনগণের মধ্যে সরাসরি সংযোগের প্রতীক। ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চিকিৎসাপ্রার্থী ও পর্যটকদের জন্য এ রুট গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ক্ষুদ্র ব্যবসা, পর্যটন ও সেবা খাতে এ পরিষেবার ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও দৃঢ় হবে। দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও আত্মীয়তার বন্ধনও শক্তিশালী হবে।
সামনে যে চ্যালেঞ্জ/
তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, পরিষেবাটি টেকসই রাখতে হলে নিয়মিত কূটনৈতিক সমন্বয়, দ্রুত ভিসা প্রদান, সীমান্তে হয়রানি কমানো এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, দীর্ঘ বিরতির পর বাস সার্ভিসটির পুনরারম্ভ শুধু যাতায়াত নয়—এটি আস্থা পুনর্গঠনেরও একটি প্রতীকী পদক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়, পরীক্ষামূলক এই উদ্যোগ কত দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী রূপ পায়।