January 23, 2026, 8:13 am

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী যাচাই-বাছাই, আপিল ও প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচনের মাঠে জটিল এক রাজনৈতিক চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে সারাদেশে বিএনপির প্রায় অর্ধশত বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনী দৌড়ে সক্রিয় রয়েছেন, অন্যদিকে বিকল্প প্রার্থী না থাকায় দলটি ও তার জোট আপাতত দুইটি সংসদীয় আসনে প্রার্থীশূন্য অবস্থায় পড়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটে প্রার্থিতা নিয়ে কোনো সংকট নেই বলে দাবি করেছেন দলটির নেতারা।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ২৬৩ জন এবং স্বতন্ত্র ১৬২ জন প্রার্থী বৈধ অবস্থায় রয়েছেন। ইসির আপিল শুনানিতে বাদ পড়া প্রার্থীদের প্রায় ৫৯ শতাংশ তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। ফলে এবারের নির্বাচনে আপিলে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা আগের সব নির্বাচনের রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
আজ মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। আগামীকাল বুধবার চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেবে নির্বাচন কমিশন। প্রতীক বরাদ্দের পরপরই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।
আপিলে ফিরেছে অধিকাংশ প্রার্থিতা/
ইসির ৯ দিনের আপিল শুনানি শেষে ঋণখেলাপির অভিযোগে বাদ পড়া ৮২ জন প্রার্থীর অধিকাংশই প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির দুইজন ও জামায়াতে ইসলামীর দুইজন রয়েছেন। পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও ছাড় পেয়েছেন।
দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে শুনানিতে আসা ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৩ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সংবিধান ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে লিখিত আবেদন করেছেন সচেতন নাগরিক মামুন হাওলাদার।
বিএনপিতে বিদ্রোহ ও শূন্য আসনের সংকট/
এবার বিএনপি ২৯২টি আসনে দলীয় প্রার্থী এবং বাকি আটটি আসনে জোটসঙ্গীদের প্রার্থী দিয়েছে। মোট ৩০০ আসনে দলটি বিকল্প প্রার্থীসহ ৩৩১টি মনোনয়নপত্র জমা দেয়। যাচাই-বাছাই ও আপিল শেষে বিএনপির চারজন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে বাদ পড়েন।
এর মধ্যে যশোর-৪ আসনে বিকল্প প্রার্থী থাকায় সেখানে সমস্যা নেই। তবে কুমিল্লা-৪ ও চট্টগ্রাম-২ আসনে কোনো বিকল্প প্রার্থী না থাকায় আপাতত এই দুটি আসন প্রার্থীশূন্য হয়ে পড়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এর পাশাপাশি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সারাদেশে প্রায় ৫০টি আসনে বিএনপির ৯০ জনের বেশি বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে সক্রিয় রয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে দলীয় বা জোট প্রার্থীর বিপরীতে সাবেক ও বর্তমান স্থানীয় নেতারা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোতে বিভক্তি তৈরি হয়েছে।
জামায়াত জোটে স্বস্তির চিত্র/
জামায়াতে ইসলামী ২৭৬টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। প্রাথমিক বাছাইয়ে কয়েকটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল হলেও ইসির আপিল শুনানিতে সবাই মনোনয়নপত্র ফিরে পেয়েছেন। ফলে জামায়াত জোটে কোনো আসন প্রার্থীশূন্য নেই।
জোটের শরিক এনসিপি, এলডিপি, খেলাফত মজলিস ও অন্যান্য দলেও বিকল্প প্রার্থী থাকায় জোটগতভাবে কোনো নির্বাচনী সংকট নেই বলে জানিয়েছেন নেতারা। জোটগত সমঝোতার কারণে নির্দিষ্ট আসনে জামায়াত প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন বলেও জানানো হয়েছে।
নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে উত্তাপ/
প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে মাঠের লড়াই শুরু হলে বিদ্রোহী প্রার্থী, প্রার্থীশূন্য আসন এবং জোটের অভ্যন্তরীণ সমঝোতা—সব মিলিয়ে নির্বাচনের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, আদালতের রায় ও শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো এই চিত্রে কতটা পরিবর্তন আনে।