March 30, 2026, 12:17 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশ যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২ এপ্রিল জাতীয় সংসদে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশেষ কমিটি। তবে ‘গণভোট অধ্যাদেশ’-এর কার্যকারিতা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে উল্লেখ করে সেটিকে বিল আকারে সংসদে না তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
রোববার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী বৈঠকে তৃতীয় দিনের আলোচনার মাধ্যমে সবগুলো অধ্যাদেশের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হয়। কমিটি আগামী ২ এপ্রিল সংসদে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পেশ করবে।
এদিকে যেসব অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ সংশোধনীসহ উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে সরকারি দল। তবে এসব বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে কমিটিতে থাকা বিরোধী দলের সদস্যরা ১৪-১৫টি অধ্যাদেশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করেছেন।
সংবিধানে গণভোটের বিধান রাখা বা না রাখার প্রশ্নে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে কমিটির সদস্য ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “গণভোট একটি জাতীয় ইস্যু। এটি বাতিলের প্রস্তাব আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। যদি গণভোট সংবিধানবহির্ভূত হয়, তবে একই দিনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়? জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে—সেই রায় কার্যকর করতে হবে।”
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “গণভোট অধ্যাদেশের ব্যবহার ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ভবিষ্যতে এর অধীনে আর কোনো গণভোট হওয়ার সুযোগ নেই। তাই এটিকে বিল আকারে এনে আইন করার প্রয়োজন নেই, এমনকি রেটিফিকেশনেরও দরকার নেই।”
কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্য সদস্যরা। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠক শেষে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে কিছু মৌলিক বিষয়ে বিরোধী দল শুরু থেকেই দ্বিমত পোষণ করে আসছে এবং এখনো সে অবস্থান বহাল রয়েছে। তার অভিযোগ, সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কিছু অধ্যাদেশ পাস করানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন ও গুম প্রতিরোধ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় দলীয় প্রভাবের আওতায় নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় ও বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত বাছাই কমিটির মতো সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টারও বিরোধিতা করেছে বিরোধী দল।
কমিটির যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো চূড়ান্ত আলোচনার জন্য সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, “১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১০-১৫টিতে সংশোধনীসহ আমরা একমত হয়েছি। তবে যেগুলোতে জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলোতে আমরা আপস করব না।”
এ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সব অধ্যাদেশ নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কিছু অপরিবর্তিতভাবে পাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, কিছু সংশোধন করে বিল আকারে আনা হবে, আর কিছু বিষয় পরবর্তী অধিবেশনে উপস্থাপন করা হতে পারে। তিনি জানান, বিরোধী ও সরকারি উভয় দলের সদস্যদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ যথাযথভাবে প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং সংসদে বিল উত্থাপনের সময় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।