May 25, 2026, 7:03 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলার রায় মাত্র ২৯ কার্যদিবসে, আসামির মৃত্যুদণ্ড গঙ্গা পানি চুক্তি/ঐতিহাসিক এই সমঝোতার ভবিষ্যৎ গন্তব্য কোন পথে? কুড়িগ্রামে প্রস্তাবিত সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে চীনা প্রতিনিধি দল খোকসায় বাস খাদে, নিহত ৪, আহত ২০, নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কা শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান ইউনিসেফের গঙ্গা পানি চুক্তির ভবিষ্যৎ/ যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শেষে ‘নীরবতা’ ৪র্থ শ্রেণি থেকেই বাধ্যতামূলক খেলাধুলা, পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে ৮টি ইভেন্ট রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা নিয়ে সুরা আন-নূরের আলো‌কে ধর্ষকের বিচার দাবি আমির হামজার দৌলতপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২ ভাগে কোরবানির সংখ্যা-বৃদ্ধি/চলমান অর্থনৈতিক চাপ ও মধ্যবিত্তের নীরব সংকট

কুষ্টিয়ায় আবাসিক শিক্ষার্থীর মৃত্যু: মেট শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিপরীতে বাবার দাবি ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’,

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ায় এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি আবাসিক ভবনে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন, আলোচনা ও বিতর্ক। একই ঘটনায় উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য ও বক্তব্য—একদিকে সহপাঠীদের অবহেলার অভিযোগ, অন্যদিকে পরিবারের দাবি এটি স্বাভাবিক মৃত্যু।
মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর নাম জুবায়ের আহম্মেদ (১৪), যিনি দৌলতপুর উপজেলার বাসিন্দা মহাসীন আলীর ছেলে। তিনি ঐ প্রতিষ্ঠানের আবাসিকে থেকে পড়াশোনা করতেন।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, জুবায়ের আগে থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে খাবার শেষে তিনি অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো একসময় অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান রাসেল ইসলাম বলেন, “রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। আগে থেকেই তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল।”
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. হোসেন ইমাম জানান, রাত ৩টার দিকে শিক্ষার্থীকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। যেহেতু ঘটনাটি একটি আবাসিক প্রতিষ্ঠানে ঘটেছে এবং সন্দেহজনক হতে পারে, তাই নিয়ম অনুযায়ী পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তবে ঘটনার ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন একই আবাসিকের কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, জুবায়ের অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। বরং অনেক দেরি করা হয়েছে। এমনকি মৃত্যুর পরও কিছু সময় তাকে আবাসিকেই রাখা হয়েছিল বলে দাবি তাদের। এছাড়া ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের বাইরে যেতে না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
একজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করে বলেন, জুবায়ের রাত ১০ টা থেকে বুকের ব্যথায় ভুগছিলেন। এসময় আবাসিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে জানালে তিনি কেয়ার নেননি। এক শিক্ষার্থী জানান, উল্টো তাকে গালাগালি করা হয়।
পরে রাত তিনটার দিকে ঐ ছাত্রটি মারা গেলে তাকে তখন তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
অন্যদিকে, জুবায়েরের বাবা মহাসীন আলী ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তার সন্তান আগে থেকেই অসুস্থ ছিল এবং তার মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। তবে কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশ কাজ করছে।
সব মিলিয়ে, একই ঘটনায় পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সহপাঠীদের অভিযোগ, পরিবারের ভিন্ন দাবি এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া—এসব কিছু বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net