August 7, 2026, 3:34 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে রুমমেট ও সহপাঠীদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি গোপনে তুলে তার প্রেমিকের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে হলজুড়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে এটি শুধু ব্যক্তিগত গোপনীয়তার চরম লঙ্ঘনই নয়, বরং নৈতিক অবক্ষয়েরও ভয়াবহ উদাহরণ।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, অর্থনীতি বিভাগের ওই শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে হলের কয়েকজন ছাত্রীর অজান্তে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তুলে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আবিদ নামে এক ব্যক্তির কাছে পাঠাতেন। পরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হলে ছবিগুলোর কিছু অংশ ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠানো হয়। এরপরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর ছবি শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের সমর্থনে তারা কিছু স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করেছেন বলেও জানিয়েছেন। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ব্যক্তিগত কক্ষেও যদি গোপনীয়তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে আবাসিক হলের নিরাপদ পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘যা রটানো হচ্ছে, তা অতিরঞ্জিত করে বলা হচ্ছে।’ তিনি পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করলেও পরবর্তী সময়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে একাধিক সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ওই ব্যক্তির দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সময় বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করা হতো। পরবর্তীতে সম্পর্কের অবনতি হলে ওই ব্যক্তি সেগুলোর কিছু অংশ অন্যদের কাছে পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিক হলের দায়িত্বশীলদের অনেকেই কথা বলতে রাজি হননি। এত স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে কেন কথা বলতে অপারগতা সেটি বোধগম্য নয়।
এ বিষয়ে জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জুলাই-৩৬ হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, ঐ মেয়েটির এই কান্ড শুধু অনৈতিক নয়। এটা আইনগতভাবে আমলযোগ্য অপরাধ। তিনি একাধিক শিক্ষার্থীর অনুভুতি কোট করে বলেন, তারা দেখতে চান প্রশাসন কি দৃশ্যমান ব্যবস্থাগ্রহন করে। সেটি দেখার পর পরবর্তী স্টেপে যাবেন তারা।