September 21, 2026, 1:20 pm

অপরিশোধিত তেলের লিটারপ্রতি দাম প্রায় ৭৯ টাকা—তবে এটি পাম্পের জ্বালানির দাম নয়; আন্তর্জাতিক বাজার, সরবরাহঝুঁকি ও পরিবহন ব্যয়ই বাংলাদেশের মূল্য নির্ধারণে বড় বিষয়
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
বাংলাদেশে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর দিনেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার পরও বাংলাদেশে জ্বালানির দাম কেন বাড়ল?
২১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম নিম্নমুখী ছিল। তবে বাজারের এই দিনের দর এবং বাংলাদেশের খুচরা জ্বালানির দামকে সরাসরি তুলনা করলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যায় না। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা করে ভবিষ্যৎ সরবরাহ, যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, পরিবহন ব্যয়, মজুত, মুদ্রার বিনিময় হার এবং বাজারে প্রত্যাশার ভিত্তিতে। অন্যদিকে বাংলাদেশের পাম্পের দাম নির্ধারিত হয় আমদানি করা জ্বালানি ও অপরিশোধিত তেলের ব্যয়, পরিশোধন, পরিবহন, কর-শুল্ক, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং রাষ্ট্রীয় বিপণন কাঠামোর মতো একাধিক উপাদান বিবেচনায়।
বিশ্ববাজারে কতটা কমেছে
২১ সেপ্টেম্বর দিনের লেনদেনে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম একপর্যায়ে প্রায় ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১.৭১ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে WTI প্রায় ২.১৪ শতাংশ কমে ৯৮.১৫ ডলারে নামে। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় বেঞ্চমার্কই ১০ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল।
জাগো নিউজে উদ্ধৃত ১০২.১৫ ডলার ব্রেন্ট ও ৯৮.৪৬ ডলার WTI-ও দিনের একটি পর্যায়ের বাজারদর হিসেবে গ্রহণযোগ্য। অর্থাৎ সংখ্যার সামান্য পার্থক্যটি মূলত বাজারের সময় ও লেনদেনের পর্যায়ের পার্থক্য; এটি মৌলিক তথ্যগত অসঙ্গতি নয়। Reuters-এর পরবর্তী আপডেটেড বাজারচিত্রে দাম আরও নিচে নেমে ১০১.৭১ ও ৯৮.১৫ ডলারে দেখা গেছে।
Bloomberg-ভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা চতুর্থ দিনের মতো তেলের দাম কমার পেছনে কূটনৈতিক তৎপরতা এবং সৌদি আরবের তেল সরবরাহ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা কাজ করছে।
সৌদি আরবের সরবরাহ কেন গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমান তেলবাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সৌদি আরবের রপ্তানি ব্যবস্থা। হুথি হামলায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ East-West Pipeline ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটি বিকল্প পথে তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে।
Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি দৈনিক ৪০ লাখ ব্যারেলের বেশি হয়েছে, যেখানে আগস্টে তা প্রায় ২৪ লাখ ব্যারেলে নেমে গিয়েছিল। অর্থাৎ বিকল্প রুট ব্যবহারের মাধ্যমে সৌদি আরব সরবরাহের একটি অংশ পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে।
JPMorgan-এর বিশ্লেষকেরা ১৮ সেপ্টেম্বরের এক নোটে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে গত ১০ দিনে তেলের সরবরাহ গড়ে দৈনিক ১ কোটি ৭১ লাখ ব্যারেল হয়েছে। এটি ২০২৫ সালের গড়ের তুলনায় প্রায় ৬১ লাখ ব্যারেল কম হলেও, চলমান সংকটের তুলনায় সরবরাহ প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী রয়েছে।
সৌদি আরবও পারস্য উপসাগরীয় বন্দর থেকে ওমানের Sohar বন্দরের কাছে জাহাজ-থেকে-জাহাজ স্থানান্তরের মাধ্যমে রপ্তানি অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করেছে। Reuters জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে এই বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থাৎ “সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনায় দাম কমেছে”—জাগো নিউজের এই বক্তব্য মোটামুটি গ্রহণযোগ্য, তবে “স্বাভাবিক” শব্দটি অতিরিক্ত সরলীকরণ। সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি; বরং বিকল্প রুট ও রপ্তানি পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সরবরাহের চাপ কিছুটা কমেছে।
কূটনৈতিক আশাও দাম কমিয়েছে
শুধু সৌদি সরবরাহ নয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের প্রত্যাশাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। Reuters বলছে, এ কারণে বাজার থেকে কিছুটা geopolitical risk premium কমেছে।
Bloomberg-ভিত্তিক প্রতিবেদনে একইভাবে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ীরা মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহঝুঁকি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পর্যবেক্ষণ করছেন।
তবে ঝুঁকি শেষ হয়ে যায়নি। Reuters জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ব্যাপকভাবে কম। সপ্তাহান্তে মাত্র ১২টি পণ্যবাহী জাহাজ ওই পথ অতিক্রম করেছে, যেখানে সংঘাত শুরুর আগে দৈনিক প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত।
তাহলে এক লিটার অপরিশোধিত তেলের দাম কত?
এক ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ১৫৮.৯৮৭ লিটারের সমান। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিসংখ্যানে এটি প্রচলিত মাপ।
২১ সেপ্টেম্বরের Reuters-উদ্ধৃত ব্রেন্টের ১০১.৭১ ডলার এবং বাংলাদেশের প্রায় ১২২.৯ টাকার কাছাকাছি ডলার বিনিময় হার ধরে হিসাব করলে:
১০১.৭১ × ১২২.৯ ≈ ১২,৫০৪ টাকা প্রতি ব্যারেল অর্থাৎ, ১২,৫০৪ ÷ ১৫৮.৯৮৭ ≈ ৭৮.৬ টাকা প্রতি লিটার। একইভাবে WTI-এর ৯৮.১৫ ডলার হলে: ৯৮.১৫ × ১২২.৯ ≈ ১২,০৬৭ টাকা প্রতি ব্যারেল অর্থাৎ, ১২,০৬৭ ÷ ১৫৮.৯৮৭ ≈ ৭৫.৯ টাকা প্রতি লিটার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ সেপ্টেম্বরের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের রেফারেন্স রেট ১২২.৮৫৭৬ টাকা পর্যন্ত ছিল, ফলে জাগো নিউজের প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে করা আনুমানিক হিসাবটি মোটামুটি সঠিক। কিন্তু ৭৯ টাকা মানেই কি বাংলাদেশের পাম্পে তেলের দাম ৭৯ টাকা? না। এটিই জাগো নিউজের প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতার জায়গা।
৭৮–৭৯ টাকা হলো আন্তর্জাতিক বাজারে একটি ব্যারেল অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্যের সরল গাণিতিক লিটার-রূপান্তর। এটি কোনোভাবেই পরিশোধিত ডিজেল, পেট্রোল বা অকটেনের আমদানি মূল্য কিংবা বাংলাদেশের খুচরা মূল্য নয়।
অপরিশোধিত তেল শোধন করে বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য তৈরি করতে হয়। এরপর এর সঙ্গে যুক্ত হয় পরিশোধন ব্যয়, জাহাজভাড়া, বীমা, বন্দরের খরচ, পরিবহন, সংরক্ষণ, কর-শুল্ক, বিপণন ব্যয়, ডিলার ও খুচরা পর্যায়ের ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য। ফলে অপরিশোধিত তেলের সরল লিটারমূল্য এবং পাম্পে বিক্রি হওয়া জ্বালানির লিটারমূল্য এক নয়।
তাহলে বাংলাদেশে ২০ টাকা বাড়ল কেন?
বাংলাদেশে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে।
Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম এবং উচ্চ পরিবহন ব্যয়ের চাপের কথা উল্লেখ করেছে। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (BPC) ক্ষতি ২২,৮৭৬ কোটি টাকা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
The Daily Star-ও জানিয়েছে, BPC মার্চ-আগস্ট সময়ে আমদানি করা জ্বালানির মূল্য পরিশোধে ২২,৮৭৬ কোটি টাকা লোকসানের কথা জানিয়েছে এবং সেপ্টেম্বরে সংস্থাটি যে দাম প্রস্তাব করেছিল তা ছিল সরকারের নির্ধারিত খুচরা দামের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
অর্থাৎ ২১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমে যাওয়াকে ভিত্তি করে বাংলাদেশের নতুন খুচরা মূল্যকে বিচার করা ঠিক হবে না। বাংলাদেশের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে আগের কয়েক মাসের আন্তর্জাতিক মূল্য, আমদানি ব্যয়, শিপিং খরচ, বিনিময় হার এবং BPC-এর আর্থিক ক্ষতি গুরুত্বপূর্ণ।
“বাংলাদেশে দাম বাড়ার দিনেই বিশ্ববাজারে দাম কমল”—বাক্যটি কতটা গ্রহণযোগ্য?
ঘটনাক্রমের দিক থেকে বাক্যটি সঠিক। ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে নতুন জ্বালানি মূল্য কার্যকর হয়েছে এবং একই দিনে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে দাম কমেছে। কিন্তু দুটি ঘটনাকে পাশাপাশি বসানো আর একটি ঘটনাকে অন্যটির কারণ হিসেবে দেখানো এক বিষয় নয়।
বাংলাদেশের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি ২০ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম প্রতিদিন, এমনকি দিনের বিভিন্ন সময়েও পরিবর্তিত হয়। তাই একই দিনে বিশ্ববাজারে দাম কমেছে বলে বাংলাদেশের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি সেই দিনের বাজারদরের সঙ্গে সরাসরি অসামঞ্জস্যপূর্ণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
বড় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য কী বলছে?
Reuters: ২১ সেপ্টেম্বর তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছে। কারণ হিসেবে সৌদি রপ্তানি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক অগ্রগতির প্রত্যাশার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সরবরাহঝুঁকি এখনো বড় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
Bloomberg: তেলের বাজারে টানা কয়েক দিনের পতন দেখা গেছে; বাজারের দৃষ্টি ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার দিকে।
The Wall Street Journal: এর আগের দিনগুলোতে সৌদি East-West Pipeline পুনরায় চালুর সম্ভাবনা এবং বিকল্প পথে তেল পরিবহনের কারণে সরবরাহঝুঁকি কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
The New York Times: এর আগের সপ্তাহে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তেলের দাম ১০৯ ডলারের ওপরে উঠেছিল এবং হরমুজ প্রণালির ব্যাঘাতের সঙ্গে পাইপলাইনটির গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছিল।
Financial Times: মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ব্যয় ও সরকারি ভর্তুকির ওপর চাপ বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ সাম্প্রতিক এক দিনের তেলের দরপতনকে দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তির সংকেত হিসেবে দেখা এখনো তাড়াহুড়ো হবে।
তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন
জাগো নিউজের প্রতিবেদনটির মূল তথ্য মোটের ওপর গ্রহণযোগ্য। বিশেষ করে ২১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও WTI-এর দর কমা, সৌদি সরবরাহ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির সঙ্গে তেলের বাজারের সম্পর্ক—এসব তথ্য Reuters, Bloomberg-ভিত্তিক প্রতিবেদন ও অন্যান্য বড় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে প্রতিবেদনের “লিটার কত টাকা” অংশটি ব্যাখ্যার দাবি রাখে। ৭৯ টাকা বা ৭৬ টাকা হলো অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক মূল্যের সরল লিটার-সমতুল্য; এটি বাংলাদেশে আমদানি করা পরিশোধিত জ্বালানি বা পাম্পের খুচরা মূল্য নয়। প্রতিবেদনের শেষাংশে এই সতর্কীকরণ দেওয়া হয়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ এবং তথ্যগত বিভ্রান্তি অনেকটাই কমিয়েছে।
আরও একটি সংশোধনযোগ্য বিষয় হলো “সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে”—এর বদলে “সৌদি আরব বিকল্প পথে রপ্তানি বাড়াচ্ছে” বা “সরবরাহ পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে” বলা বেশি নির্ভুল। কারণ Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো স্বাভাবিক হয়নি এবং হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম।
২১ সেপ্টেম্বরের বাজারচিত্রে একটি আপাত বৈপরীত্য দেখা গেলেও বাস্তবে তা ব্যাখ্যা করা যায়। বাংলাদেশে জ্বালানির দাম নির্ধারণের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের এক দিনের অপরিশোধিত তেলের দর সরাসরি সমানুপাতিক নয়। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে মূলত সরবরাহ কিছুটা পুনরুদ্ধারের আশা, সৌদি আরবের বিকল্প রপ্তানি ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক অগ্রগতির প্রত্যাশায়। কিন্তু একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহব্যবস্থা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত এবং জ্বালানি পরিবহন ব্যয়ও উচ্চ।
সুতরাং, জাগো নিউজের প্রতিবেদনের মূল তথ্য গ্রহণযোগ্য হলেও “বিশ্ববাজারে লিটারপ্রতি তেল ৭৯ টাকা”—এই তথ্যকে বাংলাদেশের পাম্পের জ্বালানির দামের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। বরং বাংলাদেশের মূল্য বোঝার ক্ষেত্রে কয়েক মাসের আন্তর্জাতিক মূল্য, আমদানি ও পরিবহন ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার এবং BPC-এর আর্থিক অবস্থাকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।