January 28, 2026, 6:45 am

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
আধুনিক সমাজে সৌন্দর্য মানেই যেন সাজগোজ, ফিল্টার আর নিখুঁত উপস্থাপনা—এমন একটি ধারণা ক্রমেই শক্ত হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যম, বিজ্ঞাপন ও চারপাশের প্রত্যাশা নারীদের ওপর চাপ তৈরি করে নির্দিষ্টভাবে নিজেকে উপস্থাপন করার। অথচ এই স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে অনেক নারী আছেন, যারা ইচ্ছাকৃতভাবেই অতিরিক্ত মেকআপ এড়িয়ে চলেন।
এই সিদ্ধান্ত কোনো অবহেলা নয়, বরং আত্মপরিচয়, আত্মসম্মান এবং স্বাচ্ছন্দ্যের প্রকাশ। মনোবিশ্লেষকদের মতে, কম মেকআপ ব্যবহার করা নারীদের ব্যক্তিত্বে কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, এমন নারীদের মধ্যে দেখা যায় যেসব ১১টি উল্লেখযোগ্য গুণ—
১. তারা স্বাভাবিক ও অকৃত্রিম
নিজেকে ঢেকে রাখার প্রবণতা তাদের নেই। যেমন তারা, ঠিক তেমনভাবেই নিজেকে গ্রহণ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
২. সিদ্ধান্তে তারা সচেতন
মেকআপ ব্যবহার করবেন কি করবেন না—এই সিদ্ধান্ত তারা সামাজিক চাপ নয়, নিজের মানসিক আরামকে গুরুত্ব দিয়েই নেন।
৩. অন্যকে খুশি করাই লক্ষ্য নয়
সবার প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য নিজেকে বদলানোর তাগিদ তারা অনুভব করেন না।
৪. নিজস্ব ঢঙে নিজেকে প্রকাশ করেন
স্টাইল, পোশাক কিংবা আচরণ—সবকিছুতেই তারা নিজের পছন্দকে প্রাধান্য দেন।
৫. প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে আস্থা রাখেন
ফিল্টার বা আড়ালের প্রয়োজন নেই—এই বিশ্বাস থেকেই তারা আত্মবিশ্বাস পান।
৬. আরামকে গুরুত্ব দেন
ত্বকের অস্বস্তি বা সময়ের চাপ এড়াতে তারা স্বাভাবিক থাকাকেই বেছে নেন।
৭. ভেতরের সন্তুষ্টিই মুখ্য
বাইরের প্রশংসার ওপর নির্ভর না করে নিজের মূল্য নিজেই নির্ধারণ করেন।
৮. প্রচলিত ছাঁচ ভাঙতে ভয় পান না
নারীত্বের নির্দিষ্ট সংজ্ঞা বা স্টেরিওটাইপ তাদের পথচলাকে নিয়ন্ত্রণ করে না।
৯. সময় ব্যবহারে তারা বাস্তববাদী
নিজের বিশ্রাম, কাজ ও ব্যক্তিগত সময়কে তারা বেশি গুরুত্ব দেন।
১০. স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেন
দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ত্বক ও স্বাভাবিক জীবনযাপনই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
১১. তারা আত্মবিশ্বাসী ও আত্মনির্ভরশীল
মেকআপ ছাড়াও বাইরে বের হওয়া তাদের কাছে নিরাপদ ও স্বাভাবিক একটি বিষয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কম মেকআপ ব্যবহার করা নারীরা প্রমাণ করেন—সৌন্দর্য কেবল বাহ্যিক নয়। আত্মবিশ্বাস, স্বাভাবিকতা আর নিজের সঙ্গে শান্তিতে থাকার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে প্রকৃত সৌন্দর্য।
মিথিক/