January 28, 2026, 6:47 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
কুমারখালীতে কথিত কিশোর গ্যাং ‘KBZ’-এর দুই সদস্যের বাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া মডেল থানা থেকে ‘নিখোঁজ’ ১৭টি আগ্নেয়াস্ত্র, কে কি বলছেন রেকর্ড উৎপাদন, রেকর্ড মজুত—তবু চাল আমদানির দরজা খুলে রাখতে হয় সারা বছর বৃহত্তর কুষ্টিয়ার চার জেলায় ৪ সমাবেশ/নৈতিক পুনর্জীবন ও মনোভাব পরিবর্তনের আহ্বান জামাত আমীরের কম মেকআপে স্বাচ্ছন্দ্য—যে ১১টি গুণে আলাদা করে চেনা যায় এই নারীদের কুষ্টিয়ার ৪টি আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে আগ্রহ ১৬ হাজার ছাড়াল ভারতের নতুন বার্তা: বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধিশালী সম্পর্ক অব্যাহত রাখার প্রতি প্রতিশ্রুতি ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বাড়ায় কমেছে গুঁড়া হলুদের দাম ৩৪ বছরে পদার্পণ উদযাপন/ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দৈনিক কুষ্টিয়ার পথচলা অব্যাহত থাকুক বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের ছিটকে পড়া: আইসিসির অবস্থান ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

রেকর্ড উৎপাদন, রেকর্ড মজুত—তবু চাল আমদানির দরজা খুলে রাখতে হয় সারা বছর

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
দেশে যখন তিন মৌসুমেই—আমন, বোরো ও আউশে—রেকর্ড উৎপাদনের হিসাব দিচ্ছে সরকার, যখন সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মজুত ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে, ঠিক তখনই চাল আমদানির সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্নের পাহাড় তৈরি হয়েছে। বাজারে নতুন আমন চালের সরবরাহ ভালো, মোটা ও মাঝারি চালের দাম কমতির দিকে। তবুও কেন আমদানির তাড়াহুড়া?
সরকার বলছে, সরু চালের দাম বেড়েছে। কিন্তু সেই যুক্তির আড়ালে কি অন্য কোনো হিসাব লুকিয়ে আছে?
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে গত ১৮ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২৩২টি প্রতিষ্ঠানকে ভারত থেকে বেসরকারিভাবে দুই লাখ টন সিদ্ধ চাল আমদানির অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। আমদানির সময়সীমা ধরা হয়েছে আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত। অথচ এই সময়টিই আমন মৌসুমের ভরা বাজার—যখন দেশের প্রায় সব বড় মোকাম ও চালকল এলাকায় নতুন চাল উঠছে।
এরই মধ্যে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দুই দিনে ৩৬টি ট্রাকে এক হাজার ৪৪৭ টন চাল দেশে ঢুকেছে। বাজার বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—যখন দেশে চালের কোনো ঘাটতির চিহ্ন নেই, তখন এত দ্রুত আমদানির প্রয়োজন কেন?
উৎপাদনের বাস্তবতা বনাম আমদানির গল্প/
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে চাল উৎপাদন হয়েছে চার কোটি ১৯ লাখ টন—আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। বোরো, আমন ও আউশ—তিন মৌসুমেই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমেই প্রায় দুই কোটি টন ধান উৎপাদনের পথে দেশ। অন্যদিকে খাদ্য অধিদপ্তরের গুদামে মজুত রয়েছে প্রায় ২১ লাখ টন খাদ্যশস্য, যার মধ্যে চালই ১৯ লাখ টনের কাছাকাছি। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালিয়েও এই মজুতের বড় অংশ অব্যবহৃত থেকে যেতে পারে।
এই বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে—তাহলে আমদানির যুক্তি কোথায়?
সরু চালের দাম: বাস্তব সংকট না কৃত্রিম আতঙ্ক?
খাদ্য মন্ত্রণালয় সরু চালের দাম বৃদ্ধিকে আমদানির প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরছে। জিরাশাইল ও শম্পা কাটারির মতো দু’টি সরু জাতের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে চার টাকা বেড়েছে।
কিন্তু কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার হার সীমিত—দেড় থেকে দুই শতাংশের বেশি নয়। খুচরা বাজারেই মূলত দাম বেশি দেখানো হচ্ছে। মাঝারি ও মোটা চালের ক্ষেত্রে বরং নতুন আমনের সরবরাহে দাম কমেছে।
নওগাঁ জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন স্পষ্ট করে বলেন,
“জিরাশাইল আর শম্পা কাটারির দাম মিলগেটে দুই টাকার মতো বেড়েছে। অন্য কোনো চালের দাম বাড়েনি। নতুন চাল আসায় অনেক জায়গায় দাম কমছে।”
তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়—দু’টি সরু জাতের সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি কি পুরো বাজারে আমদানির দরজা খুলে দেওয়ার মতো সংকট?
কারা চাপ দিচ্ছে আমদানির পক্ষে?
দুটি গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। তাদের মতে, নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের সন্ধিক্ষণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল কৃত্রিম সংকটের আবহ তৈরি করছে। সীমিত সরবরাহের বিষয়টি বড় করে দেখিয়ে আমদানির জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতীতের মতো এবারও আমদানিকৃত চালের একটি বড় অংশ সরকারকে বিক্রি করে মিলার ও আমদানিকারকরা কেজিতে পাঁচ থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত মুনাফা করতে পারেন। খাদ্য অধিদপ্তরের ভেতরের একটি অংশ এই প্রক্রিয়ায় নীরব সমর্থন দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে কারা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আমদানির সবচেয়ে বড় খেসারত দেবেন কৃষকরা। ভরা আমন মৌসুমে আমদানিকৃত চাল বাজারে ঢুকলে মিলগেটে ধানের দাম পড়ে যাবে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ ওঠানো কঠিন হবে, যার প্রভাব পড়বে সদ্য শুরু হওয়া বোরো মৌসুমের আবাদেও।
একজন কৃষি অর্থনীতিবিদ বলেন,
“যখন উৎপাদন ভালো থাকে, তখন বাজারে হস্তক্ষেপের নামে আমদানি করলে কৃষক বার্তা পায়—দেশে ফলন বাড়ালেও দাম পাবে না।”
বিকল্প কী ছিল?
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ভেতরের একাধিক কর্মকর্তা ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আমদানির বদলে বাজার মনিটরিং জোরদার করা, মজুতদারি ও কারসাজির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়াই ছিল যৌক্তিক পথ। কিন্তু সেই কঠিন পথে না গিয়ে সহজ পথ—আমদানির সিদ্ধান্ত—নেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net