August 7, 2026, 2:20 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোচিত ও সমালোচিত এলিট বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন নামে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাহিনীর নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি জবাবদিহিতা, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো নাগরিক অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠন। এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, হয়রানি, বেআইনি আচরণ বা অসদাচরণের অভিযোগ সরাসরি করতে পারবেন সাধারণ নাগরিক। অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে। এর মাধ্যমে বাহিনীর কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা ও জনআস্থা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে পরিচালিত হবে। বাহিনীর নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। সদর দপ্তর ঢাকায় হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের যেকোনো স্থানে এর ইউনিট বা শাখা স্থাপন করা যাবে।
নাম ও আইনি কাঠামো পরিবর্তিত হলেও বাহিনীর মূল দায়িত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে না। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ দমন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে এসআরবি।
একই সঙ্গে বাহিনীর সদস্যদের জন্য আরও কঠোর শৃঙ্খলাবিধি প্রস্তাব করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা, মাদকাসক্তি, চাঁদাবাজি বা অবৈধ অর্থ আদায়, দুর্নীতি কিংবা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
খসড়া আইনের ওপর জনমত গ্রহণ শেষে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংযোজন-বিয়োজন করে এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। পরে জাতীয় সংসদে আইনটি পাস হলে র্যাবের বিদ্যমান আইনি কাঠামো বিলুপ্ত হয়ে নতুন আইন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।