January 13, 2026, 3:51 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল ঘোষণার বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়সীমা ও চলমান অর্থনৈতিক চাপের কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এবং বড় ধরনের প্রচারণা-ডাক-ঢোলের পরও, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এখন এই ঘোষণায় এগোতে পারছে না। তবে পে-কমিশনকে তাদের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং স্কেল অবিলম্বে ঘোষণা না হলেও একটি কাঠামো প্রস্তুত করে তা নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পে-কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত আকার নেওয়া হয়। কমিশন জানায়, ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত সভায় নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে এবং পরে প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবনায় বেতনের অনুপাত হিসেবে তিনটি বিকল্প বিবেচনায় রাখা হয়েছে—১:৮, ১:১০ ও ১:১২। সর্বনিম্ন বেতনের জন্যও তিনটি প্রস্তাব এসেছে—২১ হাজার, ১৭ হাজার ও ১৬ হাজার টাকা। সরকারি কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ধরা হয়েছে ছয়জন হিসেবে, এবং এর ওপর ভিত্তি করে আর্থিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছিলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার সম্ভাবনা নেই। আর্থিক উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “কমিশনের প্রতিবেদন প্রস্তুত হলে সময়োপযোগী বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হবে, তবে বাস্তবায়ন করবে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার।”
পেশাগত সূত্র জানায়, পে-কমিশনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কমিশন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্তরে বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা সম্পন্ন করেছে এবং বেতন স্কেলের চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করছে। তবে নির্বাচনের ঘনিয়ে আসা সময় এবং চলমান অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে কমিশনের সুপারিশ এই মুহূর্তে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
সংক্ষেপে, পে-কমিশন তাদের কাজ শেষ করেছে, তবে নতুন বেতন কাঠামোর ঘোষণা ও কার্যকর করা হবে ক্ষমতায় আসা নির্বাচিত সরকারের হাতে। সরকারের তৎপরতা ও সময়সীমা বিবেচনায়, সরকারি কর্মচারীরা বর্তমানে পুরনো স্কেলের ভিত্তিতে মহার্ঘ ভাতা পেয়ে যাচ্ছেন।