January 28, 2026, 8:12 am

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করা নিঃসন্দেহে দেশের ক্রিকেটের জন্য একটি বড় ধাক্কা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছে—আয়োজক সংস্থা সূচি ও কাঠামোগত স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিসিবির উদ্বেগ কতটা যৌক্তিক?
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের ভেন্যু নিয়ে যে নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তা হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের নিরাপত্তা যেকোনো দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে আইসিসির দাবি অনুযায়ী, স্বাধীন ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের নিরাপত্তা মূল্যায়নে ভারতে কোনো “বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য” হুমকি পাওয়া যায়নি। ফলে বিসিবির অবস্থান তথ্যভিত্তিকভাবে আইসিসিকে সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
আইসিসির সিদ্ধান্ত কেন কঠোর?
বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ভেন্যু পরিবর্তন মানে শুধু একটি দলের সুবিধা নয়—বরং সম্প্রচার, টিকিটিং, নিরাপত্তা, ভ্রমণ ও আয়োজক দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করা। আইসিসি সেই বাস্তবতা বিবেচনা করেই বিসিবির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। এতে বোঝা যায়, ভবিষ্যতে কোনো সদস্য দেশ চাইলে শেষ মুহূর্তে সূচি পরিবর্তনের নজির তৈরি হোক—এটি আইসিসি কোনোভাবেই চায় না।
বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা?
এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেট কূটনীতির জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ নয়, শক্ত তথ্য, বিকল্প পরিকল্পনা এবং আগাম কৌশল জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ এমন কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়তে পারে।
স্কটল্যান্ডের সুযোগ
বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডের সুযোগ পাওয়া প্রমাণ করে যে আইসিসি সহযোগী দেশগুলোকেও প্রস্তুত রাখছে। এটি বিশ্ব ক্রিকেটে প্রতিযোগিতা বাড়াবে এবং উদীয়মান দলগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে।
শেষ কথা/
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া কেবল একটি টুর্নামেন্ট মিস করা নয়—এটি ভাবনার জায়গা তৈরি করে দিয়েছে ক্রিকেট প্রশাসন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কৌশল নিয়ে। এখন দেখার বিষয়, এই অভিজ্ঞতা থেকে বিসিবি কী শিক্ষা নেয় এবং ভবিষ্যতে কতটা কৌশলী ও প্রস্তুত হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অবস্থান নেয়।