January 28, 2026, 12:00 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
কুমারখালীতে কথিত কিশোর গ্যাং ‘KBZ’-এর দুই সদস্যের বাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া মডেল থানা থেকে ‘নিখোঁজ’ ১৭টি আগ্নেয়াস্ত্র, কে কি বলছেন রেকর্ড উৎপাদন, রেকর্ড মজুত—তবু চাল আমদানির দরজা খুলে রাখতে হয় সারা বছর বৃহত্তর কুষ্টিয়ার চার জেলায় ৪ সমাবেশ/নৈতিক পুনর্জীবন ও মনোভাব পরিবর্তনের আহ্বান জামাত আমীরের কম মেকআপে স্বাচ্ছন্দ্য—যে ১১টি গুণে আলাদা করে চেনা যায় এই নারীদের কুষ্টিয়ার ৪টি আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে আগ্রহ ১৬ হাজার ছাড়াল ভারতের নতুন বার্তা: বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধিশালী সম্পর্ক অব্যাহত রাখার প্রতি প্রতিশ্রুতি ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বাড়ায় কমেছে গুঁড়া হলুদের দাম ৩৪ বছরে পদার্পণ উদযাপন/ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দৈনিক কুষ্টিয়ার পথচলা অব্যাহত থাকুক বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের ছিটকে পড়া: আইসিসির অবস্থান ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া মডেল থানা থেকে ‘নিখোঁজ’ ১৭টি আগ্নেয়াস্ত্র, কে কি বলছেন

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতার কথা বলছে, ঠিক তখনই কুষ্টিয়ায় এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা সামনে এসেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া মডেল থানা থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের সবগুলো এখনো উদ্ধার হয়নি। প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ রয়েছে ১৭টি আগ্নেয়াস্ত্র—যেগুলোর অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য দিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এই নিখোঁজ অস্ত্রই এখন নির্বাচনের আগে নতুন করে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে অনেকের মধ্যে।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া মডেল থানা থেকে মোট ৫৫টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অভিযানে ৩৮টি অস্ত্র উদ্ধার করা হলেও বাকি ১৭টি অস্ত্রের কোনো হদিস আজও মেলেনি। শুধু অস্ত্রই নয়—লুট হওয়া গুলির সঠিক হিসাবও এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ১৭টি অস্ত্র কোথায়, কার হাতে, কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে—-এই অনিশ্চয়তাই নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
ভোটারদের এই ভয় কেবল অনুমানভিত্তিক নয়। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি বারবার নির্বাচনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নির্বাচনের আগে বা চলাকালে সক্রিয় ছিল, সেখানে ভোটকেন্দ্র দখল, ভোটারকে ভয় দেখানো, প্রতিপক্ষের কর্মীদের ওপর হামলা এবং কেন্দ্র ফাঁকা করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
পেছনে চোখ ফেরালেই দেখতে পাওয়া যাবে, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে বিভিন্ন জেলায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে এলাকা ছাড়া করার অভিযোগ ওঠে। অনেক এলাকায় ভোটের ফল ঘোষণার আগেই অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগুলির ঘটনায় সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রমুখী হতে ভয় পান।
২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় একাধিক স্থানে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতাকে তীব্র করে তোলে। বিশেষ করে যেসব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি তুলনামূলক দুর্বল ছিল, সেখানে অস্ত্রধারীদের দাপটে ভোটগ্রহণ কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নির্বাচনের আগের রাতে ও ভোটের দিন বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া, ফাঁকা গুলি ও আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ ওঠে। অনেক ভোটার জানিয়েছেন, অস্ত্রধারীদের উপস্থিতির কারণে তারা কেন্দ্রে যেতে পারেননি বা ভোট দেওয়ার আগেই কেন্দ্র ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়—স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও অবৈধ অস্ত্রের ভূমিকা স্পষ্ট। ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে বহু জায়গায় দেখা গেছে, আগ্নেয়াস্ত্র হাতে সশস্ত্র লোকজন কেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান নিয়ে ভোটারদের নিরুৎসাহিত করেছে। কোথাও কোথাও প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে এই অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধ অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো–এসব অস্ত্র প্রকাশ্যে ব্যবহার না হলেও এর “অদৃশ্য উপস্থিতি” ভোটের পরিবেশ নষ্ট করে। ভোটার জানেন না, অস্ত্রটি কখন, কোথায়, কার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে। এই অনিশ্চয়তাই মানুষকে ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে রাখে।
এই বাস্তবতায় কুষ্টিয়ায় থানা থেকে লুট হওয়া ১৭টি আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়া শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, বরং নির্বাচনকে ঘিরে মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তার বড় সংকট। অতীত অভিজ্ঞতায় মানুষ দেখেছে—নির্বাচনের সময় অবৈধ অস্ত্র মানেই আতঙ্ক, সংঘর্ষ আর ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি।
প্রার্থীদের প্রশ্ন: এতদিনে উদ্ধার কেন নয়?
নিখোঁজ অস্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও।
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমির হামজা বলেন, “থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র যদি এখনো উদ্ধার না হয়, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা কীভাবে দেওয়া যাবে?” তার মতে, অবৈধ অস্ত্রের ভাষাও অবৈধ, এটি ব্যবহৃতও হবে অবৈধ কাজে।
একই আসনের বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জাকির সরকার আরও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, “দেড় বছর হয়ে গেল—এখনো কেন অস্ত্রগুলো উদ্ধার হয়নি, সেটাই বোধগম্য নয়। এই অস্ত্রগুলো নির্বাচনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনিও আমঙ্কা করেন।
প্রার্থীদের মতে, অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নও।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন বলেন,
“নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। প্রয়োজনে বিজিবি ও ড্রোন ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।”
অন্যদিকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান,“পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথবাহিনী কাজ করছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net