February 25, 2026, 6:25 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের স্বার্থে ‘মব’ ব্যবহার করেছে—এমন মন্তব্য করেছেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষার। তিনি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি সরাসরি প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশে যে ধরনের অত্যাচার-অনাচার ও ভয়াবহ মব ভায়োলেন্স ঘটেছে, তার দায় তিনি নেবেন না কেন?
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর সঞ্চালনায় ‘চ্যানেল আই আজকের সংবাদপত্র’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তুষার অভিযোগ করেন, বিরোধী মত দমনে মবকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “মানুষকে হয়রানি ও নিপীড়নের জন্য মব পাঠানো হয়েছে। শেখ হাসিনার সময় ছাত্রলীগ যেত, এখন যায় মব—তফাৎটা কোথায়? তবে ছাত্রলীগও এমনভাবে রাস্তায় সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায় করেনি, যেভাবে সাম্প্রতিক সময়ে হয়েছে। সুবিচার যেন হারিয়ে গিয়েছিল।”
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “লোকটিকে জীবিত অবস্থায় ধরা হয়েছিল। তাকে ভাত খাওয়ানোর পর পিটিয়ে হত্যা করা হয়। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কোনো ব্যবস্থা নেননি। পুলিশকে একবারও বলেননি—যারা এ কাজ করেছে, তাদের ধরো। এটা কি খুন নয়? হত্যা করার অধিকার কি কাউকে দেওয়া হয়েছে?”
এ প্রসঙ্গে তিনি ইন্ডেমনিটি অধ্যাদেশের সমালোচনা করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংঘটিত সব অপরাধ কীভাবে সাধারণভাবে মাফ হতে পারে? এমন অপরাধ কি ক্ষমাযোগ্য?
নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ/
নতুন সরকারের পথচলা প্রসঙ্গে তুষার বলেন, সামনে তাদের একাধিক জটিল চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নির্বাচনে পরাজিত পক্ষের ‘গুপ্ত রাজনীতি’ কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সেটি বড় প্রশ্ন। তাঁর মতে, একটি দল একই সঙ্গে প্রকাশ্য ও গোপন রাজনীতি করতে পারে না। তাই অবিশ্বাস দূর করতে সরকারকে সার্বক্ষণিক চেষ্টা চালাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা। আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য ভোটারভিত্তি রয়েছে, যাদের একটি অংশ এবার বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। তাদের আস্থায় রাখা এবং সংঘাত থেকে দূরে রাখা জরুরি। জোর করে নয়, কাজ ও সুশাসনের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করতে হবে। নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হলে শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব ধীরে ধীরে কমে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘আবর্জনা পরিষ্কার’ বিতর্ক/
তুষারের মতে, ড. ইউনূস শেখ হাসিনার সরকারের ‘আবর্জনা’ পরিষ্কার করতে এসেছিলেন; কিন্তু তিনি তা করতে পারেননি, বরং নতুন জটিলতা তৈরি করেছেন। বহু চুক্তি, আদেশ ও অধ্যাদেশ রেখে গেছেন, যেগুলোর ভালোমন্দ এখন বর্তমান সরকারকে ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, “যখন বর্তমান সরকার কিছু পরিবর্তন আনবে, তখন কেউ বলবে—ড. ইউনূস তো এভাবে বলেছিলেন। তখন সেটি ব্যাখ্যা করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।”
অর্থনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনর্গঠন
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি অর্থনীতি, স্বাস্থ্যখাত, বেকারত্ব ও নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, “লেগো ব্লক দিয়ে যেমন একটি সুন্দর বাড়ি বানাতে সময় লাগে, কিন্তু ভেঙে ফেলতে মুহূর্ত—বাংলাদেশকে এখন আবার নতুন করে গড়তে হবে। অনেক কাঠামো ভেঙে গেছে, সেগুলো পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় ও পরিকল্পনা লাগবে।”
গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা
গণমাধ্যমের অফিসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে তুষার বলেন, “প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, উদীচী, ছায়ানট—এসব প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে। নির্দেশ দিলে কি এগুলো ঠেকানো যেত না? আমরা তো নানা ফোন রেকর্ড শুনি—কে কী নির্দেশ দিয়েছেন। তাহলে এগুলো বন্ধের নির্দেশ কোথায়?”
তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টা ঘটনাস্থলে যাননি, যদিও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন।
মাজার পোড়ানো ও সহিংসতা
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মাজার পোড়ানো ও বাউল নির্যাতনের ঘটনাও উল্লেখ করেন তুষার। তিনি বলেন, “মাজার ধ্বংস হয়েছে তাঁর শাসনামলে। এর দায় তিনি নেবেন না? দেশে যে ভয়ঙ্কর মব ভায়োলেন্স হয়েছে, তার দায় কি তাঁর নেই?”
তাঁর অভিযোগ, অন্যের দায় নির্ধারণে সক্রিয় হলেও নিজের দায় স্বীকারে ড. ইউনূস নীরব। “সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি ব্যর্থ। সংবিধান রক্ষা করতে ব্যর্থ। এমনকি স্বার্থসংঘাতপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের নৈতিক অবস্থানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন”—মন্তব্য করেন তুষার।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “নিজের কর মওকুফের মতো সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো?”
দৈনিক মানব জমিনের সৌজন্যে/