August 6, 2026, 1:12 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়র ৪৪ শিক্ষককে ঘিরে দেশব্যাপী গোপন তৎপরতার অভিযোগ/ তদন্তে গঠিত হলো উচ্চপর্যায়ের কমিটি মাত্র ৯১ টন ভারতীয় মরিচেই ভেঙে পড়ল বাজার/৪০০ টাকা কেজি দাম কে ধরে রেখেছিল? জুলাই আন্দোলন ছিল সম্মিলিত, লক্ষ্য হওয়া উচিত ঐক্য ও রাষ্ট্রগঠন ভোরে ঝিনাইদহ সীমান্তে জটলা দেখে বিএসএফের রাবার বুলেট, বাংলাদেশি আহত চুয়াডাঙ্গা/ প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে মালয়েশিয়ায়, দ্বিতীয় স্ত্রী বুলডোজার দিয়ে ভাঙলো স্বামীর বাড়ি প্রথমবারের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু গবেষণার আগে গবেষণার ভিত্তি: বিশ্ববিদ্যালয় কি প্রস্তুত? ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ওরিয়েন্টেশন/ খাদ্যে হতাশার স্বাদ যাত্রার মঞ্চে নেমে এলো নীরবতা, বিদায় কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম উদ্দিন খান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ওরিয়েন্টেশন/কর্মক্ষম মানবসম্পদ গড়ে বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা শিক্ষামন্ত্রীর

চার মাসের শিশুকে নদীতে ফেলে নিজেও ঝাঁপ/এখনও প্রকৃত কারন জানা যায়নি

অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে দাম্পত্য দ্বন্দ্ব, নাকি দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ?
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে চার মাস বয়সী সন্তানকে ফেলে দিয়ে নিজেও ঝাঁপ দেওয়া মা যমুনার (২২) এমন ভয়াবহ সিদ্ধান্তের পেছনের প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অসুস্থ শিশুর চিকিৎসা, স্বামী-স্ত্রীর দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ এবং মানসিক চাপে ভেঙে পড়ার বিষয়গুলো ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, নদী থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়ার পর যমুনাকে হেফাজতে নেওয়া হলেও তার কাছ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত যে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে শুধু কান্না করছেন। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে যমুনার বিয়ে হয় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর এলাকার আবদুল আলিমের সঙ্গে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ ও পারিবারিক অশান্তি চলছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সেই টানাপোড়েন আরও বেড়ে যায়।
এরই মধ্যে তাদের চার মাস বয়সী ছেলে হাদি অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল এবং তাকে কুষ্টিয়ার বাইরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছিল। তবে চিকিৎসা পদ্ধতি, কোথায় নেওয়া হবে কিংবা পারিবারিক সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ ছিল কি না, সেটি এখন তদন্তের বিষয় হয়ে উঠেছে।
ঘটনার দুই দিন আগে যমুনা অসুস্থ শিশুকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। স্বামী আবদুল আলিম দাবি করেছেন, তিনি ফোন করে স্ত্রীকে বাড়ি ফিরে আসার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু যমুনা ফেরেননি। এরপর শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ খবর আসে, তিনি হরিপুর সংযোগ সেতু থেকে শিশুটিকে নদীতে ফেলে নিজেও ঝাঁপ দিয়েছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একটি মা স্বাভাবিক অবস্থায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তাই তার মানসিক অবস্থার পাশাপাশি পারিবারিক সম্পর্ক, অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে চাপ, আর্থিক সংকট বা অন্য কোনো পারিবারিক বিরোধ ছিল কি না—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যমুনার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলে তার সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা হবে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্য, স্বজন ও প্রতিবেশীদের বক্তব্যও নেওয়া হচ্ছে। নিখোঁজ শিশু হাদিকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাটি শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক সহিংসতা, দাম্পত্য সংকট এবং অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসাজনিত চাপ কীভাবে একটি পরিবারকে চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে, সেই প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা না গেলেও, অসুস্থ সন্তানকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব এবং দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহই আপাতত আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net