May 25, 2026, 6:58 pm


আলী আহসান মুজাহিদ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার পক্ষ থেকে আলী আহসান মুজাহিদকে “বহিষ্কার” করা হয়েছে মর্মে যে বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, তা বাস্তবতা, সাংগঠনিক শিষ্টাচার ও নৈতিকতার দিক থেকে অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিষয়টির প্রকৃত সত্য জনসম্মুখে তুলে ধরা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
আমি আলী আহসান মুজাহিদ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন রুকন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। একই সঙ্গে কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক ভাবে, কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের কিছু নেতার পক্ষপাতমূলক আচরণ, সাংগঠনিক ন্যায়বিচারের অভাব এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের ঘাটতি আমাকে গভীরভাবে মানসিকভাবে আঘাত করে।
এই পরিস্থিতিতে আমি ব্যক্তিগত বিবেচনা, আত্মমর্যাদা এবং নীতিগত অবস্থান থেকে স্বেচ্ছায় রুকন পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। আমি আনুষ্ঠানিক ভাবে লিখিত আবেদনপত্রের মাধ্যমে জেলা আমীর বরাবর আমার পদত্যাগপত্র জমা দেই। সেই চিঠিতে আমি অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় উল্লেখ করেছি যে, আমি নিজেই রুকন পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করতে চাই এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। অর্থাৎ, এটি ছিল সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাপ্রণোদিত পদত্যাগ, কোনো সাংগঠনিক শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নয়।
কিন্তু বিস্ময়করভাবে, সেই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন, (যিনি কি না নিজেকে অধ্যাপক দাবি করেছেন, কিন্তু তিনি অধ্যাপক নন, তিনি যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন, সেখানে কারোরই অধ্যাপক হওয়ার কোন সুযোগ নেই ) একটি বিবৃতি প্রদান করেন, যেখানে বলা হয় যে, আলী আহসান মুজাহিদকে “সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার” করা হয়েছে। বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন আমি সংগঠনের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ করেছি এবং সংগঠন বাধ্য হয়ে আমাকে বহিষ্কার করেছে।
এখানেই মূল প্রশ্ন তৈরি হয়। যদি একজন ব্যক্তি নিজেই লিখিতভাবে পদত্যাগ করেন, তাহলে তার পদত্যাগ গ্রহণ বা অগ্রাহ্য করার বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে আলোচনা হতে পারে; কিন্তু পদত্যাগপত্রকে পাশ কাটিয়ে তাকে “বহিষ্কার” দেখানো কতটা নৈতিক ও সৎ আচরণ? এটি কি সত্য গোপন করে জনমনে ভিন্ন ধারণা তৈরির অপচেষ্টা নয়?
বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, আমার স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘটনাকে আড়াল করে, শাস্তিপ্রাপ্ত হিসেবে উপস্থাপন করার একটি কৌশলী প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা ব্যক্তি মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আমি আমার পদত্যাগপত্রে কোথাও সংগঠনের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দেইনি। বরং সংগঠনের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ ও সফলতা কামনা করেছি। একজন দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে আমি শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক উপায়ে সরে দাঁড়ানোর পথ বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু আমার সেই ভদ্রতা ও সাংগঠনিক শালীনতার প্রতিদান দেওয়া হয়েছে অপমানজনক ও বিভ্রান্তিকর “বহিষ্কার” ঘোষণার মাধ্যমে।
আমি মনে করি, একটি সংগঠনের শক্তি তার ন্যায়বিচার, সততা, পক্ষপাতিত্বহীন ও সহমর্মিতার ওপর নির্ভর করে। মতপার্থক্য বা সাংগঠনিক অসন্তোষ থাকতেই পারে, কিন্তু একজন ব্যক্তির স্বেচ্ছাপ্রণোদিত সিদ্ধান্তকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি মানুষের আস্থাও দুর্বল হয়ে পড়ে।
অতএব, আমি সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানাই—ঘটনাটিকে সত্য ও বাস্তবতার আলোকে মূল্যায়ন করুন। আমার পদত্যাগ ছিল আমার ব্যক্তিগত ও নীতিগত সিদ্ধান্ত, কোনো বহিষ্কারের ফল নয়। সত্য গোপন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে, সাংগঠনিক সততা ও নৈতিকতার পরিচয় দেওয়াই সবার জন্য কল্যাণকর হবে।
ধন্যবাদান্তে
আলী আহসান মুজাহিদ
কুষ্টিয়া