June 10, 2026, 3:27 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
ঝিনাইদহ/যখন একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই ‘গুরুতর অসুস্থ’ হয়ে পড়ে! ইউনূস সরকারের সময়কার অধ্যায় পেরিয়ে নতুন সম্পর্কের দিকে ঢাকা-দিল্লি : তথ্য উপদেষ্টা নিয়ন্ত্রণহীন রেস্তোরাঁ বাজার/ দাম বাড়ছে একই, কিন্তু প্রতিদিন ছোট হচ্ছে গ্রাহকের প্লেট কুষ্টিয়ায় চিরকুট লিখে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা/এনজিও ঋণ ও প্রবাসজীবনের চাপের নীরব ট্র্যাজেডি সংবাদ বিশ্লেষণ/১১ জেলায় বিজিবির সঙ্গে আনসার বাহিনী দিয়ে সীমান্তে নতুন নিরাপত্তা বলয়, বাড়ছে কৌশলগত গুরুত্ব পোড়াদহ জংশন থেকে অপহৃত ৩ শিশু ঢাকায় উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ এবারও আদালত গ্রহণ করলো না ইউনূস-নূরজাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা অধ্যাপক আবুল বারকাতের শর্ত সাপেক্ষ জামিন বাজারের আগুন, মধ্যবিত্তের দীর্ঘশ্বাস/ সরকার কি পরিস্থিতির গভীরতা বুঝতে পারছে? তিন বগি লাইনচ্যুত, খুলনার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেলযোগাযোগ বন্ধ

গঙ্গা পানিচুক্তি পুনর্নবীকরণের ৯০তম বৈঠক আজ বসছে ভারতে

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বহুল আলোচিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর। এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় শুরু হচ্ছে দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) ৯০তম বৈঠক, যেখানে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণই হতে যাচ্ছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বৃহস্পতিবার (২১ মে) শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ বৈঠক চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত।
বুধবার বৈঠকে অংশ নিতে কলকাতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশের ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কবির। প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ এশিয়া উইংয়ের পরিচালক মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) মোহাম্মদ ওমর ফারুক আকন্দ।
ভারতের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তরের একজন প্রধান প্রকৌশলী।
বাংলাদেশ-ভারত পানিবণ্টন ইস্যুর ইতিহাস মূলত ফারাক্কা বাঁধকে ঘিরে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত এই বাঁধ ১৯৭৫ সালে চালু করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল কলকাতা বন্দরের নাব্যতা রক্ষা করা। তবে বাঁধ চালুর পর থেকেই বাংলাদেশে গঙ্গার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ হ্রাস পাওয়ায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি, মৎস্য, নৌপরিবহন ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পানির অভাবে দেখা দেয় লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদী ভাঙন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়। ফলে স্বাধীনতার পর থেকেই বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়।
দীর্ঘ আলোচনা শেষে ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক চুক্তি/
দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়ার উপস্থিতিতে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তিকে সে সময় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হয়েছিল।
চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে মে—এই শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার পানিপ্রবাহের ওপর ভিত্তি করে দুই দেশ পানি ভাগাভাগি করে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, পানির প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং অবশিষ্ট পানি পাবে বাংলাদেশ। প্রবাহ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেকের মধ্যে থাকলে বাংলাদেশ পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং বাকি অংশ পাবে ভারত। আর প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে দুই দেশ সমানভাবে পানি ভাগ করে নেবে।
চলতি বছরের শেষেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবারের জেআরসি বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ নতুন করে চুক্তি নবায়ন না হলে আগামী বছর থেকে গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, উজানে পানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে পানিবণ্টন আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই নতুন চুক্তিতে শুধু পানির হিস্যা নয়, নদী ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং তথ্য বিনিময়ের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে পারে।
বৈঠকের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল মুর্শিদাবাদে গিয়ে ফারাক্কা এলাকায় গঙ্গা নদীর পানিপ্রবাহ পরিমাপ করবেন। পরে শুক্রবার তারা কলকাতায় ফিরে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নেবেন। কলকাতার একটি অভিজাত হোটেলে শুক্র ও শনিবার মূল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন নদীর সংখ্যা ৫৪টি। এসব নদীর পানি ব্যবস্থাপনা ও বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে যৌথ নদী কমিশন। তবে তিস্তার পানিবণ্টনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
এ অবস্থায় গঙ্গা পানিচুক্তির ভবিষ্যৎ এবং দুই দেশের মধ্যে আস্থাভিত্তিক পানি কূটনীতি জোরদারে এবারের বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net