May 21, 2026, 3:28 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার খামারিরা এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে গরু লালন-পালনের ব্যস্ততা যেমন বেড়েছে, তেমনি ঈদ বাজারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এক বিশাল আকৃতির গরু—‘রাজাবাবু’। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়নের কমলাপুর লক্ষ্মীপুর গ্রামের এই গরুটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে কৌতূহল ও আগ্রহ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।
প্রায় ২৬ মণ ওজনের এই ধবধবে সাদা-কালো গরুটির বয়স তিন বছর। চার দাঁতের এই ‘রাজাবাবু’কে দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন স্থানীয় খামারে। অনেকে আবার ছবি তুলছেন, কেউ বা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে দেখছেন গরুটির বিশাল আকৃতি ও শান্ত স্বভাব। ঈদকে সামনে রেখে এই গরুর দাম হাঁকা হয়েছে ৮ লাখ টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গরুটি পালন করছেন স্থানীয় খামারি মো. মোতালেব হোসেন মন্ডল। নিজের বাড়ির গাভীর বাছুর থেকে জন্ম নেওয়া এই গরুটিকে তিনি ছোটবেলা থেকেই সন্তানের মতো যত্ন করে বড় করেছেন। ভালোবেসে তার নাম রেখেছেন ‘রাজাবাবু’। দেশীয় পদ্ধতিতে গম, ছোলা, চালের গুঁড়া, আলু ও ঘাস খাইয়ে গরুটিকে বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার না করার দাবি করেছেন খামারি পরিবার।
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া জেলায় এবার ২ লাখেরও বেশি গবাদিপশু (গরু, ছাগল ও ভেড়া) প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। এর মধ্যে শুধু গরুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। জেলার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব গবাদিপশু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
সরেজমিনে মোতালেব হোসেন মন্ডলের খামারে গিয়ে দেখা যায়, গরুটির যত্নে ব্যস্ত রয়েছেন তার সহধর্মিনী। খামারজুড়ে রয়েছে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নিয়মিত পরিচর্যার ছাপ। পরিবারটি জানায়, প্রায় এক দশক ধরে তারা গরু পালন করছেন এবং গত তিন বছর ধরে ‘রাজাবাবু’কে বিশেষভাবে লালন-পালন করা হচ্ছে।
খামারির স্ত্রী বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে গরুটি লালন-পালন করেছি। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হয় শুধু খাবারের পেছনে। গরুটির ওজন এখন প্রায় ২৬ মণ। আমরা এর দাম ৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছি।
গরুর মালিক মোতালেব হোসেন মন্ডল জানান, এটি তাদের নিজের গাভীর পেট থেকে জন্ম নেওয়া বাছুর। জন্মের পর থেকেই তিনি নিজ হাতে বড় করেছেন ‘রাজাবাবু’কে। শান্ত স্বভাবের কারণে গরুটির নাম রাখা হয় রাজাবাবু। তিনি বলেন, “আমি নিজেই চাষ করা ঘাস, খড় ও ভুষি খাইয়েছি। বাইরের কোনো খাবার দিইনি।” অসুস্থতার কারণে এবার তিনি নিজে গরুটিকে হাটে নিতে পারছেন না বলেও জানান।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ব্যাপারীরা গরুটির দাম ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত বলেছেন, তবে তিনি ৮ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চান। আগামী দুই দিনের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে শনিবার গাবতলীর হাটে গরুটি নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
এদিকে তিনি সরকারের নীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “ভারত থেকে গরু আমদানি কম হলে স্থানীয় খামারিরা লাভবান হবেন। বর্তমানে গো-খাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে, তাই সরকারের কাছে অনুরোধ—গরু আমদানি যেন নিয়ন্ত্রণ করা হয়।”
সব মিলিয়ে কুষ্টিয়ার ঈদ বাজারে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই ‘রাজাবাবু’। স্থানীয়দের মতে, শুধু একটি গরু নয়, এটি এখন এলাকার গর্ব ও ঈদ বাজারের অন্যতম আকর্ষণ।